Advertisement
E-Paper

শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ বেড়ে নিউমোনিয়া মদনের

ক্রীড়া ও পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। শ্বাসকষ্ট আছে। জ্বর আছে। সোমবার জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বুকে যে-‘নিউমোনিক প্যাচ’ পাওয়া গিয়েছিল, তা থেকে ধরা পড়েছে নিউমোনিয়া। সর্বোপরি তাঁর রক্তে সংক্রমণের মাত্রা বেড়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৫ ০৩:৪৮

ক্রীড়া ও পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্রের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। শ্বাসকষ্ট আছে। জ্বর আছে। সোমবার জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বুকে যে-‘নিউমোনিক প্যাচ’ পাওয়া গিয়েছিল, তা থেকে ধরা পড়েছে নিউমোনিয়া। সর্বোপরি তাঁর রক্তে সংক্রমণের মাত্রা বেড়েছে।

এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতারের পর থেকে মদনবাবু দীর্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতালেরই বাসিন্দা। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার তাঁকে সেখানেই আইটিইউয়ে ভর্তি করানো হয়। পিজি-র অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘মদনবাবুর রক্তে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তাঁর যে নিউমোনিয়া হয়েছে, সেটা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত। ফলে আপাতত তাঁকে আইটিইউয়েই রাখা হচ্ছে।’’

চিকিৎসকেরা জানান, সোমবার সকালের দিকে মন্ত্রীর আরও এক বার ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়েছিল। জ্বরের প্রকোপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তিনি ভুল বকতে শুরু করেন। তার পরেই তাঁকে আইটিইউয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের পরে কলকাতা হাইকোর্টে মন্ত্রীর জামিনের আর্জি নাকচ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে জেলে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন আইনজীবীরা। মন্ত্রীর তরফেও তাতে সায় দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলছেন, সারদা মামলায় অভিযুক্ত মদনবাবু মন্ত্রী-পদে তো রয়েছেনই। তার উপরে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন এসএসকেএমের মতো সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের আশ্রয়ে। সেই জন্য সিবিআইয়ের পক্ষে মদনবাবুকে প্রভাবশালী প্রমাণ করা সহজ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় জামিনের আশায় মন্ত্রী পিজি ছেড়ে জেলে ফিরতে মরিয়া। কিন্তু রবিবার গভীর রাত থেকে যে-ভাবে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে চলেছে, তাতে তাঁর জেলে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কিছু দিনের জন্য অনিশ্চিত হয়ে গেল বলে ঘনিষ্ঠদের ধারণা।

সারদা মামলার অভিযুক্ত হিসেবে মদনবাবুর থাকার কথা আলিপুর জেলে। বারবার অসুস্থতার সূত্রে তাঁর ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে পিজি-র উডবার্ন ওয়ার্ড। তিনি ঠিক কত দিন হাসপাতালে রয়েছেন, তিন মাস আগে তা আলিপুর জেলের সুপারকে চিঠি দিয়ে তা জানতে চেয়েছিল সিবিআই। কিন্তু জেল-কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য তদন্তকারীদের দেননি। এই কারণে আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারক এ দিন মঙ্গলবার আলিপুর জেলের সুপারকে ভর্ৎসনা করেন।

সিবিআই সূত্রের খবর, ২০১৪-র ১২ ডিসেম্বর মদনবাবুকে গ্রেফতার করে হয়। দু’দফায় পাঁচ দিন তিনি ছিলেন সিবিআইয়ের হেফাজতে। তার পরে তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজত অর্থাৎ জেল-হাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু কয়েক দিন জেলে থাকার পরেই মদনবাবু ভর্তি হয়ে যান এসএসকেএম হাসপাতালে। তিনি কত দিন জেলে থেকেছেন আর কত দিন হাসপাতালে, তা জানার জন্য তদন্তকারীরা ১২ মে আলিপুর জেলের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠান। কিন্তু ওই তথ্য তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ জানানো হয়।

কেন ওই তথ্য সিবিআই-কে দেওয়া হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জেল-কর্তৃপক্ষ এ দিন আদালতে জানান, সিবিআই যে এই তথ্য চেয়েছে, সেটা তাঁরা আদালতকে জানিয়েছিলেন ১৩ মে। ওই তথ্য সিবিআই-কে দেওয়া যাবে কি না, তখনই তাঁরা আদালতের কাছে তা জানতে চেয়েছিলেন বলে জেল-কর্তৃপক্ষ এ দিন দাবি করেন।

জেল-কর্তৃপক্ষের এই দাবির প্রেক্ষিতে সিবিআইয়ের আইনজীবী পার্থসারথি দত্ত জানান, ভারতীয় কার্যবিধির ১৫৬ ধারা অনুযায়ী তদন্তের স্বার্থে কোনও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে অযথা পরিস্থিতি জটিল করে সিবিআই-কে ওই তথ্য দেওয়া হয়নি বলে পার্থবাবু অভিযোগ করেন।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বিচারক সৌগত রায়চৌধুরীর জেল সুপার অরিন্দম সরকারকে ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘‘আপনি ওই আর্জি আদালতে জানাবেন কেন?’’ তার পরেই জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ১৭ অগস্টের মধ্যে সব তথ্য সিবিআইয়ের কাছে জমা দিতে হবে।

pg woodburn ward madan mitra madna mitra suffering madan mitra pneumonia madan mitra asthma madan mitra critical madan mitra ill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy