নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে আজ, মঙ্গলবার প্রথম বার পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে রাজ্যে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র দাবিতে ধর্মতলায় ধর্নায় বসার কথা রয়েছে তাঁর। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশি অনুমতি না-মেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের এই কর্মসূচি ঠিক কী ভাবে হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন দলীয় নেতৃত্ব। পুলিশের অনুমতি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে মমতা বলেছেন, ‘‘আমরা যাব। যেখানে আটকাবে, সেখানে বসব। গ্রেফতার করলে, করবে!’’
ভোটের ফল প্রকাশের পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এক দিন কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন এবং বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সেখানে। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে দলের নানা স্তরে তীব্র চাপের মুখে ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় বসার কথা তাঁর। সে কথা জানিয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু এ দিন বিকেলে তৃণমূলের তরফে মঞ্চ বাঁধার কাজ করতে গেলে পুলিশ আপত্তি করে। খবর পেয়ে সেখানে যান দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং সন্দীপ বক্সী। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে মমতা বলেন, ‘‘তৃণমূলের সভা, মিছিল কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ধর্নায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে।’’
পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছে, রানি রাসমণিতে নয়, তৃণমূলের কর্মসূচি হতে পারে মেট্রো সিনেমার উল্টো দিকে ‘ওয়াই চ্যানেলে’র এক পাশে। সেখানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন কুণালেরা। পুলিশ অবশ্য তৃণমূলকে জানিয়েছে, দু’ঘণ্টার জন্য এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। বেলা ১২টা থেকে ২ টো অথবা ২টো থেকে চারটে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য, ‘‘বেকারত্ব, উচ্ছেদ, ভাঙচুর, জীবিকা হারানো এবং অন্যান্য জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করার জন্যও সাধারণ মানুষকে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার, একে বেআইনি কার্যকলাপ হিসেবে দেখা যায় না।’’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আক্রমণের ঘটনায় এ দিন রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ডাকা ছিল তৃণমূলের। দলের তরফে প্রতি ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও তৃণমূলের এই রকম কোনও কর্মসূচি নজরে পড়েনি। জেলা নেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এই অবস্থায় দলের কর্মীরা পথে নামতে চাননি। ধর্মতলার কর্মসূচিতে দলের নেতা-কর্মীদের যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মমতা এ দিন বলেন, ‘‘আপনারাও পারলে আসুন।’’ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ দিনও তাঁর মুখে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের কথা শোনা গিয়েছে। বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি দিল্লি যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। মমতা আরও বলেছেন, ‘‘আমি রাজনীতি ছাড়ব না। বিজেপি আমার কাছ থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু আমি কখনও মাথা নত করব না!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)