E-Paper

মমতার রদবদলেও অসন্তোষ, প্রশ্ন উত্তর থেকে দক্ষিণে

শুক্রবার মমতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বর্ধিত বৈঠকে রদবদল নিয়ে আলোচনায় প্রক্রিয়াটিকে কার্যকরী করার কথা বলেছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে আলোচনায় কল্যাণ বলেছিলেন, ‘রদবদল দরকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:১৫
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ভোট পরবর্তী বিপর্যয় সামাল দিতে সাংগঠনিক রদবদল করেও প্রশ্নের মুখে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাখা সংগঠন তো বটেই দলের রাজ্য সভাপতি পদে বদল নিয়েও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলের নেতাকর্মীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। শুধু নিজেদের মধ্যেই নয়, অনেকেই সরাসরি নিজেদের অপছন্দের কথা জানিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। শনিবার এই অসন্তোষ প্রথম সামনে এনেছেন দলের নবনির্বাচিত জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য কুণাল ঘোষ।

শুক্রবার মমতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বর্ধিত বৈঠকে রদবদল নিয়ে আলোচনায় প্রক্রিয়াটিকে কার্যকরী করার কথা বলেছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে আলোচনায় কল্যাণ বলেছিলেন, ‘রদবদল দরকার। তবে যাঁদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাঁরা যেন উপযুক্ত হন।’ কমিটি সামনে আসার পরদিনই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে মমতার নির্ভরযোগ্য হিসেবে পরিচিত কুণালই এ দিন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মমতাদির সঙ্গে আছি। কিন্তু বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই।’ কী সেই ভুল, তা স্পষ্ট করে তিনিই লিখেছেন, ‘দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের বদলে বিভিন্ন স্তরে যদি ভুল চলতে থাকে, সেটা দেখেও চোখ বুজে থাকতে পারব না।’ ‘বিশ্বাঘাতকতায়ও নেই’ বা ‘মমতাদির সঙ্গেই আছি’ বললেও তিনি যে ইতিমধ্যে একাধিক জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘কথাবার্তা’ও শুরু করেছেন, তাও জানিয়ে
দিয়েছেন কুণাল।

দলের মধ্যে থেকে যে বিক্ষোভ- অসন্তোষ সামনে এসেছে, তার সিংহভাগ ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। রদবদলে তার কোনও প্রতিফলন নেই বলেই মনে করছেন দলের অনেকে। মমতা শিবিরের এক সাংসদের কথায়, ‘‘অভিষেককে আপাতত সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া গেলে ‘পারফরম্যান্স’-এর যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে বলে বার্তা দেওয়া যেত। কিন্তু যা হয়েছে তাতে সেই বার্তা দেওয়া যায়নি।’’ প্রসঙ্গত, সাংসদদের একাংশে যে বিদ্রোহের ইঙ্গিত মিলছে তাতে লোকসভায় দলনেতা হিসেবে অভিষেকের ভূমিকার কথাও তুলেছেন কেউ কেউ। দলের আর এক সদ্যপ্রাক্তন জেলা সভাপতির কথায়, ‘‘রাজ্য সভাপতি বদল দরকার ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পালন করতে পারবেন? তিনি দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের সে ভাবে চেনেন?’’ প্রসঙ্গত, কালীঘাটে রদবদলের আগেই কল্যাণকে ওই পদে চেয়েছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু আইনজীবী কল্যাণ সময় দিতে পারবেন না বলে সে কথা এগোয়নি।

রদবদলে উত্তরবঙ্গকে উপেক্ষার কথা তুলেছেন কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা থেকে একজনও যোগ্য ব্যক্তি নেই, না রাজবংশী, না অ-রাজবংশী, না আদিবাসী, না সংখ্যালঘু, না সংখ্যাগুরু।’ তাঁর মন্তব্য, ‘এখনও এত উন্নাসিকতা!’

এ দিকে, পরিষদীয় দলের ‘আলাদা’ হয়ে যাওয়া বিধায়কদের নিয়ে এ দিন দুশ্চিন্তা আরও কিছুটা বেড়েছে তৃণমূলে। মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রশাসনের তরফে আমন্ত্রণ পেয়ে শহরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিদ্রোহী বিধায়কদের কয়েক জন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, মেরামতির বদলে ভাঙন আরও গভীর হতে চলেছে। কালীঘাটের সঙ্গে থাকা বিধায়কদেরও কেউ কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy