দেড় মাসের ব্যবধানে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের বিএলএ-দের নিয়ে শুক্রবার আবার বৈঠক করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাড়ির লাগোয়া দফতরের সেই বৈঠকে বিএলএ-দের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এসআইআর পর্বের বাকি কয়েকটা দিন প্রাণপাত পরিশ্রম করতে হবে। বিশেষ নজর দিতে হবে ভবানীপুর কেন্দ্রের তিনটি ওয়ার্ডে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, শুক্রবারের বৈঠকে মমতা বলেছেন, ৬৩ এবং ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাড়তি নজর দিতে হবে। দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএলএ-দের। ঘটনাচক্রে, এই দু’টি ওয়ার্ডেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অবাংলাভাষী হিন্দু ভোট রয়েছে। যে অংশের মধ্যে বিজেপির প্রভাব সর্বজনবিদিত। গত লোকসভা ভোটে এই দুই ওয়ার্ডে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।
অন্যদিকে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের নাম ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ভাবে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা। প্রসঙ্গত, ওই ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু অংশের ভোটারেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। যে অংশ তৃণমূলের জনসমর্থনের অন্যতম পুঁজি। সূত্রের খবর, মমতা বৈঠকে বলেছেন, খসড়া তালিকায় যে নাম রয়েছে, তার পরেও পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে বহু নাম বাদ দেওয়ার ‘চক্রান্ত’ চলছে। তাই দু’টি তালিকারই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য যেন তাঁর কাছে পৌঁছোয়।
দৈনিক স্ক্রুটিনির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতার মেয়র তথা দলের অন্দরে মমতার ‘আস্থাভাজন’ হিসাবে পরিচিত ফিরহাদ (ববি) হাকিমের কাছে। তিনিই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা। এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম পর্বের পরে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় দেখা গিয়েছিল, প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে মমতার কেন্দ্র থেকে। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ‘মৃত’ ভোটার। তার পরে গত ডিসেম্বরে মমতা বিএলএ-দের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ‘আসল’ ভোটারদের নাম কেটে দিয়ে নকল ভোটারদের নাম যুক্ত করা হতে পারে। এসআইআরের শেষ পর্বে এসে ফের বিএলএ-দের নিয়ে বৈঠক করলেন মমতা।
ইতিমধ্যেই মমতার ভবানীপুরের ‘দায়িত্ব’ নিজে নিয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুভেন্দু ভবানীপুরের জন্য পৃথক সমীক্ষাও করিয়েছেন। ধারাবাহিক ভাবে ভবানীপুর কেন্দ্রে দলের কর্মসূচিও করছেন শুভেন্দু। সেই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলনেত্রীর তৎপরতা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হারতে হয়েছিল মমতাকে। তার পরে তিনি ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই উপনির্বাচনে মমতা প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জিতলেও তার আগে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জিতেছিলেন ৩০ হাজার ভোটে। ২০১৬ সালে ভবানীপুর থেকে মমতা জিতেছিলেন ২৫ হাজার ভোটে। অর্থাৎ, উপনির্বাচন বাদ দিলে গত দু’টি বিধানসভা ভোটে ভবানীপুরে তৃণমূলপ্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৫-৩০ হাজারের মধ্যে। সেই ভবানীপুরেই এসআইআরের প্রথম পর্বে নাম বাদ পড়েছে ৪৫ হাজার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা