E-Paper

এক বাবার ছয় সন্তান, তাতেই ডাক এসআইআরের শুনানিতে!

যে সব ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির ছ’জন সন্তান আছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কিসের ভিত্তিতে ছ’জন সন্তান থাকা ব্যক্তিদের ডাকার মাপকাঠি ঠিক হল, সেই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলই।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

আপনি যাঁকে বাবা বলছেন, তাঁকেই বাবা হিসাবে উল্লেখ করেছেন আরও ছ’জন! ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানির এমনই নোটিস পেয়ে তাজ্জব বালিগঞ্জের বাসিন্দা এক যুবক। দেখা যাচ্ছে, তিনি ছাড়াও তাঁর আরও তিন ভাই-বোন একই কারণে শুনানির ডাক পেয়েছেন। এখন তাঁদের চিন্তা, তাঁরাই যে বৈধ সন্তান, প্রমাণ করবেন কী করে? বৃহস্পতিবার আলতামিজ ফারহাজ খান নামে ওই যুবক ফোনে বললেন, ‘‘শুনানির নোটিস পেয়ে অবাক হয়ে যাই। এ বার কি বাবার সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যেতে হবে?’’

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের এক বাসিন্দাকে বার বার নথি চেয়ে হয়রান করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে দিন দুয়েক আগেই জমির দলিলের পাশাপাশি দাদুর কবরের মাটি নিয়ে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হন এক যুবক। তাঁর দাবি, দাদু এই মাটিতেই মিশে আছেন। সেই মাটির সঙ্গে মিলিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা হোক, তাঁরই বংশধর কিনা। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে বাদ দিতে এই ভাবে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।

যে সব ক্ষেত্রে এক ব্যক্তির ছ’জন সন্তান আছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কিসের ভিত্তিতে ছ’জন সন্তান থাকা ব্যক্তিদের ডাকার মাপকাঠি ঠিক হল, সেই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলই। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, এখন যাঁদের বয়স ৬০-এর বেশি, তাঁদের প্রজন্মে পাঁচ-ছ’টি ভাই-বোন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। তার জন্য এখন নোটিস আসবে কেন?

আলতামিজ জানান, তাঁর বাবা শাকিল আহমেদ খান রাজ্য সরকারের কর্মী। কলকাতা পুরসভার ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁদের বাড়ি। বাবা-মা ছাড়াও তাঁরা সাত ভাই-বোন সেখানে থাকেন। তবে তাঁর দুই ভাই-বোন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাকি পাঁচ ভাই-বোন এবং বাবা-মায়ের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাবার নাম মিলছে না বলে আলতামিজের এক বোনের শুনানির ডাক আসে। গত ১৮ জানুয়ারি আলতামিজ ফোন পান। তাঁকে জানানো হয়, তিনি যাঁকে বাবা হিসাবে উল্লেখ করে ফর্ম পূরণ করেছিলেন, সেই ব্যক্তিকেই বাবা হিসাবে দেখিয়ে নাম তুলেছেন আরও ছ’জন। আলতামিজের কথায়, ‘‘আমি ছাড়াও আমার আরও তিন ভাই-বোনকে একই কারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আমাদের মায়ের ক্ষেত্রেও শুনানির ডাক এসেছিল। তিনি ২০০৩ সালে বিহারে এসআইআরে নাম তুলেছিলেন। সেখানে তিনি স্বামী, অর্থাৎ, আমার বাবার নাম দিয়েই সমস্তটা করেছিলেন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, আমার মায়ের ক্ষেত্রে মায়ের বাবার নাম মিলছে না।’’ আলতামিজ জানান, গত বুধবার শুনানিতে হাজিরা দিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে নথিপত্র জমা করে এসেছেন। কিন্তু শুনানির কাগজের পিছনে সই করে দেওয়া ছাড়া জমা পড়া নথির অন্য কোনও রকম রসিদ দেওয়া হয়নি তাঁদের। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি।

নির্বাচন কমিশন যদিও সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১০০ জনের বেশি সন্তান রয়েছে, এমন সাত জন মিলেছেন। ২০০ জন সন্তান, এমন দু’জন, ৫০ জন সন্তান, এমন ১০ জন, ৩০ জন সন্তান, এমন ১৪ জন, ২০ জন সন্তান, এমন ৫০ জন মিলেছেন। কমিশন সূত্রের দাবি, এ থেকেই স্পষ্ট, ভুয়ো ভোটারদের নাম খসড়া তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। আরও ঝাড়াই-বাছাই করে এই ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু এমনটা হল কী ভাবে? কমিশন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বুথ লেভেল এজেন্ট, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের একাংশ এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের একাংশের ভুলের জন্য এমনটা হয়ে থাকতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Voter Lists

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy