E-Paper

‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’: টাকা নিয়ে চিন্তায় অনেকে

কোচবিহারের উপভোক্তা পঞ্চমী বর্মণ বলেন, "আগে ৭ তারিখের মধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেয়ে গিয়েছি। এ বারে ১১ তারিখ পার হয়ে গেলেও পাইনি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:৪৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোটের প্রচারে বিজেপির আশ্বাস ছিল, তারা ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ চালু করবে। মহিলারা মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন। সোমবারই নতুন সরকার জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প চালু হবে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘‘চালু কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ হবে না।’’

তবে চলতি মাসের ১১ তারিখ পেরোলেও ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা পাননি রাজ্যের অসংখ্য উপভোক্তা। তা নিয়ে চিন্তা, উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বাসিন্দা ময়না দাস রায় বলছেন, “১৭০০ টাকা করে পেতাম। ওই টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি মেটাই। এ মাসে এখনও টাকা না ঢোকায় খুব সমস্যায় পড়েছি।” বীরভূমের রামপুরহাট শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামণি মাল, নমিতা মাল বলছেন, ‘‘বিজেপি অন্নপূর্ণা ভান্ডার দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে প্রকল্পের আবেদনপত্র হাতে পাইনি। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও অ্যাকাউন্টে পড়েনি। আশায় আছি, টাকা ঢুকবে।’’

হুগলিতেও উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাননি। পেশায় গৃহ-সহায়িকা, মানকুণ্ডুর শম্পা বলের আশঙ্কা, ‘‘কিছুটা বিদ্যুৎ বিলে,কিছুটা রান্নার গ্যাসে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা খরচ করতাম। টাকা বন্ধ হবে না তো!’’

কোচবিহারের উপভোক্তা পঞ্চমী বর্মণ বলেন, "আগে ৭ তারিখের মধ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেয়ে গিয়েছি। এ বারে ১১ তারিখ পার হয়ে গেলেও পাইনি। তাই একটু চিন্তা হচ্ছে।” মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টাকা এলেও এ মাসের টাকা এখনও আসেনি। তেহট্টের সপ্তমী বাইন বলেন, “টাকাটা পেলে মেয়েকে কম্পিউটার ক্লাসেভর্তি করাতাম।”

‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ নতুন করে আবেদন করতে হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার আমকোপা অঞ্চলের গীতারানি মণ্ডল, সমাপ্তি মাইতিরা বলছেন, “সরকার বদলেছে। আমাদের কিছু ফর্ম ভরতে হবে কি না, সেটা বুঝতে পারছি না।” দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা টুম্পা দত্ত ও রমা হালদার বলেন, “কী ভাবে আবেদন করব, কিছুই জানি না।” একই সুরে বর্ধমানের বাসিন্দা পাপিয়া দাস বলছেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে খুবই কাজে লেগেছে। তবে এই মাসে টাকা পাইনি। নতুন সরকার অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কথা জানিয়েছে। কী ভাবে আবেদন করতে হবে জানা নেই।’’

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এ দিন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ নিয়ে সংশয় দূর করেছেন। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে শুভেন্দু সরকারি কর্তাদের জানান, ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প চালু হবে। তা পরিচালিত হবে স্বচ্ছতা, সরাসরি ব্যাঙ্কে অর্থ (ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার) দেওয়ার পদ্ধতি মেনে। তবে উপভোক্তা তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকবে না, ভারতীয় নাগরিক নন, এমন ব্যক্তি থাকতে পারবেন না।

প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের দাবি, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ এবং ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর মধ্যে সমন্বয়ের আগে পুরনো প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা পুনর্যাচাই করা হতে পারে। সে প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে। তা ছাড়া, ‘এরিয়ার’-প্রসঙ্গও চর্চায় রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Lakkhir Bhandar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy