এ বার ভোট দিতে পারবেন কি না, আশ্বাসের খোঁজে শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার মনোহরপুরে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সভায় গিয়েছিলেন মতুয়া-ভক্ত যোগেশচন্দ্র বিশ্বাস। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে তাঁর। পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তবে নাগরিকত্বের জন্য এখনও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) আবেদন জানাননি। সভা থেকে তিনি ফিরেছেন হতাশা নিয়ে।
সভায় বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, কৌস্তভ বাগচী, অর্জুন সিংহেরা মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়ায় রাজ্য সরকারকে দুষলেন। সিএএ-তে আবেদন করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে মতুয়াদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তার জবাব দিলেন না।
যোগেশের কথায়, ‘‘নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে বলছেন নেতারা। এত কম সময়ে তা সম্ভব? আগে যাঁরা সিএএ-তে আবেদন করেছেন, তাঁদের অনেকেই এখনও ওই শংসাপত্র পাননি। মনে হচ্ছে, ভোট দিতে পারব না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগদার আর এক মতুয়া-ভক্তের ক্ষোভ, ‘‘দ্রুত নাগরিকত্ব দিতে উচ্চ পর্য়ায়ের দু’টি কমিটি গড়ার কথা শুনেছি। কিন্তু কবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সে ঘোষণা হয়েছে কি? তা হলে আর ভোট দেব কী করে!’’ ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে তাঁরও। মাগুরখালির মতুয়া-ভক্ত মিহিরকুমার রায় অবশ্য আশাবাদী, ‘‘আমার ও পরিবারের দু’জনের নাম বাদ গিয়েছে। শুনানি হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত শংসাপত্র পাব এবং ভোট দিতে পারব।”
উত্তর ২৪ পরগনার এই বিধানসভা মতুয়া প্রধান। জেলার মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখান থেকেই সবচেয়ে বেশি জনের (১৫,৩০৩) নাম বাদ গিয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার নাম ‘বিবেচনাধীন’। ২০২৪-এ এই কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে জেতেন তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুর।
‘পরিবর্তন যাত্রা’র সভা থেকে এ দিন কৌস্তভের দাবি, ‘‘মতুয়াদের বিপদে ফেলার জন্য রাজ্য সরকার সরকারি অফিসারদের দিয়ে ভোটার-তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে। এক জনও বৈধ হিন্দুর নাম বাদ গেলে, আমরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব।” একই দাবি লকেটের।
সভায় হাজির ছিলেন না, তবে একটি ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি তথা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের আশ্বাস, ‘‘সিএএ-তে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ফলে, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলে ভোট দিতে পারবেন।” তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের কটাক্ষ, ‘‘মতুয়া-উদ্বাস্তুরা এখন বিজেপির গলার কাঁটা। সিএএ-র কথা বলে ওরা ফের ভাঁওতা দিচ্ছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)