আগের বছরের তুলনায় গত মাসে দেশে জিএসটি আদায় বাড়ল ৮.৭%। শুক্রবার সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংগ্রহের মোট পরিমাণ ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকায় উঠে তৈরি করল পরোক্ষ কর আদায়ের নতুন নজির। কেন্দ্রীয় জিএসটি, রাজ্য জিএসটি এবং সমন্বিত জিএসটি থেকে আদায়ের অঙ্ক এত দিন সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের এপ্রিলে, ২.২৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। আর গত মার্চেও জিএসটি সংগ্রহ ৮.৮% বেড়ে ২ লক্ষ কোটি ছাড়িয়েছিল।
গত অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) পুরোটা জুড়ে মোট আদায় ৮.৩% বেড়েছে। দাঁড়িয়েছে ২২.২৭ লক্ষ কোটিতে। তার আগের বছর ওই অঙ্ক ছিল ২০.৫৫ লক্ষ কোটি টাকা। একই সময়ে নিট জিএসটি আদায় ৭.১% বেড়ে হয়েছে ১৯.৩৪ লক্ষ কোটি।
কেন্দ্রের দাবি, এর প্রধান কারণ আমদানি থেকে ২৫.৮% রাজস্ব বৃদ্ধি। যা এপ্রিলে ৫৭,৫৮০ কোটি টাকা হয়েছে। আগে মেটানো কর ফেরত অর্থাৎ রিফান্ড বাদ দিয়ে নিট হিসেবে সংগ্রহ হয়েছে ২,১১ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৭.৩% বেশি। এই সময়ে মোট রিফান্ড ১৯.৩ % বেড়ে হয়েছে ৩১,৭৯৩ কোটি টাকা। অন্য দিকে, দেশীয় লেনদেন থেকে সংগৃহীত রাজস্ব ৪.৩% বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ১.৮৫ লক্ষ কোটি টাকায়।
সরকারি মহলের দাবি, কর আদায় বৃদ্ধি দেশে মজবুত আর্থিক কর্মকাণ্ডকেই তুলে ধরে। ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নজিরবিহীন জিএসটি সংগ্রহ বর্ধিত চাহিদা এবং কর জমায় উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপদেষ্টা প্রাইস ওয়াটারহাউস-এর অংশীদার প্রতীক জৈন অবশ্য বলছেন, ‘‘বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় বিষয় হল, দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের উপর জিএসটি আদায় বৃদ্ধির হারকে ছাপিয়ে গিয়েছে আমদানি থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির হার। এটা চাহিদা কমার ইঙ্গিত। এতে সম্ভবত এটাই প্রতিফলিত হচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে দেশের মানুষ অযথা খরচের প্রবণতায় রাশ টানছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)