হরিণ শিকার করে মাংস খাওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে গ্রেফতার করেছে বন দফতর। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের কুড়চিবনি গ্রামে ধৃতের নাম পাড়ু মুর্মু। বছর পঞ্চাশের পাড়ুর বাড়ি থেকে কাঁচা হরিণের মাংস বাজেয়াপ্ত করেছেন বনকর্মীরা। খড়্গপুরের ডিএফও শিবানন্দ রাম বলেন, ‘‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই ব্যক্তিকে ধরা হয়। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে।’’
নয়াগ্রামের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে রয়েছে নানা বন্যপ্রাণী। জঙ্গলে হরিণের সংখ্যাও কম নয়। ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় চিতল হরিণের বংশবৃদ্ধির ফলে বেশ কয়েক বছর আগে নয়াগ্রামের জঙ্গলে হরিণ ছেড়েছিল বন দফতর। জঙ্গলেও হরিণের সংখ্যা বেড়েছিল। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কয়েক বছর আগে এলাকার চাষের জমিতে, এমনকি লোকালয়েও হরিণ ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। কিন্তু একটি চক্র প্রায়ই চোরাগোপ্তা হরিণ শিকার করছে বলে অভিযোগ। চড়া দামে হরিণের মাংস গোপনে বাইরে বিক্রি হয়ে যায়। লাগোয়া ওড়িশাতেও হরিণের মাংস পাচার হয় বলে অভিযোগ। তবে বেশিরভাগ ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না।
শুক্রবার স্থানীয়দের একাংশ জানতে পারেন, পাড়ুর বাড়িতে হরিণের মাংস রান্না হয়েছে। গ্রামবাসীই খবর দেন নয়াগ্রাম রেঞ্জ অফিসে। বনকর্মীদের সামনে পাড়ুর স্ত্রী স্বীকার করেন, তাঁর স্বামী এ দিনই হরিণের মাংস এনেছেন। কিছুটা মাংস তিনি রান্না করেছেন। অবশিষ্ট মাংস মাটির হাঁড়িতে রাখা আছে। পাড়ুর বাড়ি থেকে সেই কাঁচা মাংস বাজেয়াপ্ত করে বন দফতর। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, হরিণের শিং, হরিণ ধরার ফাঁদও পেয়েছেন বনকর্মীরা। পাড়ুকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, একটি চক্র গোপনে হরিণ শিকার করে চলেছে। পাড়ু ধরা পড়লেও চক্রের মাথারা আড়ালেই রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, জঙ্গলের শুকনো পাতায় আগুন লাগিয়ে দিয়ে তারের ফাঁসের ফাঁদ পেতে হরিণ ধরা হয়। আগুন দেখে হরিণ ছুটে পালানোর সময়ে ফাঁদে আটকা পড়ে যায়।
হরিণ শিকারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক তরজাও। নয়াগ্রামের বাসিন্দা বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি উৎপল দাস মহাপাত্রের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের লোকেরা হরিণের মাংসের কারবারে যুক্ত। এ দিন পাড়ুকে ধরা হলেও চক্রের মাথা তৃণমূলের প্রভাবশালীদের আড়াল করা হচ্ছে।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘‘কে, কোথায় কী করেছে তার দায় কি তৃণমূলের! হরিণ শিকারে বিজেপির লোকজনই পটু।’’