গ্রামের ভোল পাল্টাতে বড়ামারা গ্রাম দত্তক দিল নাড়াজোল রাজ কলেজ।
দাসপুরের কিসমত নাড়াজোল থেকে ক্ষুদিরাম সড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার গেলেই পড়বে বড়ামারা গ্রাম। গ্রামটিতে মোট ১৮০টি পরিবারের বাস। জনসংখ্যা ৯২৮জন। পিছিয়ে পড়া এই জনপদের মূল জীবিকাই চাষবাস। একশো দিনের কাজ এবং অন্যের জমিতে মজুরি খেটেই সংসার চলে সিংহভাগ পরিবারের। প্রত্যন্ত এই জনপদকেই দত্তক নিয়েছেন নাড়াজোল রাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। এগিয়ে এসেছেন গ্রামের বাসিন্দারাও।
সূত্রের খবর, বয়স্কের শিক্ষা থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষার ব্যবস্থা, আধুনিক শিক্ষা, আইনি বিষয়ে সচেতনতা, বির্পযয় মোকাবিলা-সহ নানা পাঠ দেওয়া চলছে। পড়ুয়াদের আবৃত্তি, নাচ-গানের তালিম দেওয়া হচ্ছে। চাষে কীটনাশক সার ব্যবহার বন্ধ করে জৈব সার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হয়েছে। খড়্গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে গ্রামে জৈব সার তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে নাড়াজোল রাজ কলেজ। বিকল্প আয়ের জন্য কাপড় সহ নানা বস্ত্র এবং কাপ-প্লেটের উপর নকশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের।
শুধু তাই নয়, কুসংস্কার দূরীকরণের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রামের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রেই চলছে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা। দেশের নানা খবর নিয়ে ধারণা তৈরি করতে খবরের কাগজ পড়ার উপর জোরও দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়ে এ বার ক্যাশলেশ বিষয়েও পাঠ দিতে উদ্যোগী হয়েছেন নাড়াজোল কলেজের শিক্ষকেরা। কিন্তু গ্রামের শিশু সহ যুবক-যুবতীদের এখনও কম্পিউটার সমন্ধে কোনও ধারণা নেই। তাই নেট ব্যাঙ্কিং এবং ই-মানি বিষয়েও পাঠ দেওয়ার আগে গ্রামে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বড়ামারা গ্রামের অর্পণ জেলে, সুমন মন্ত্রী, খুকুমণি হাজরাদের কথায়, “এখন আমরা খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করি। পড়াশোনার পর আবৃতি, গানের রেওয়াজ করি।” গ্রামের গণেশ ভুঁইয়া, বনমালি হাইত, স্বপন হাজরা বললেন, “দিদিমণিরা কাগজ পড়তে বলছেন। এতদিন তো এই সব নিয়ে ভাবিই নি।”
নাড়াজোল রাজ কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া বলেন, “গ্রামের উন্নতির জন্যই কলেজের এই উদ্যোগ।” কলেজের টিচার ইনচার্জ রনজিৎ খালুয়া বলেন, “বড়ামারা গ্রামটি অন্য পাঁচটি গ্রামের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। আমাদের উদ্যোগে গ্রামটির উন্নতি হলে ভাল লাগবে।”
কলেজের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধান গগন সামন্ত বলেন, “এখন গ্রামটিতে যে কর্মকাণ্ড চলছে, প্রশংসা করা ছাড়া বলার কিছু নেই।”
বিদ্যসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “সমাজ গঠনের কাজে নাড়াজোল রাজ কলেজ এগিয়ে এসেছে। ভাল উদ্যোগ।” বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার জয়ন্ত কিশোর নন্দী বলেন, “ইতিমধ্যে রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষও একটি গ্রাম নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এ বার যাতে সমস্ত কলেজ এগিয়ে আসে, তার আর্জি জানাব।”