E-Paper

জঙ্গলমহলে হতাশা, খানিক খুশি শিল্পমহল

বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, দুর্গাপুর শিল্প নোড ও পর্যটন উন্নয়নের মতো একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফাইল চিত্র।

কেউ বলছেন হতাশার, কারও কথায় শিল্প-সহায়ক বাজেট।

রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা বাজেটে জঙ্গলমহল নিয়ে তেমন ঘোষণা নেই। জঙ্গলমহলের প্রায় ৩২ লক্ষ শালপাতা সংগ্রাহক আজও শ্রমিকের মর্যাদা পাননি। এ বারের বাজেটেও তার উল্লেখ নেই। যা নিয়ে ক্ষোভ ধরা পড়ল গেরুয়া সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের রাজ্য সহ সভাপতি ও ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক সতীশ সিংহের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘‘শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় বাংলার লক্ষ লক্ষ জনজাতি মানুষ এখনও কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারছেন না। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও উল্লেখ না থাকায় জঙ্গলমহলের বনজ সম্পদ নির্ভর মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।" এ বারের বাজেটে কেন্দু পাতা সম্পর্কেও কোনও সরাসরি বা পৃথক ঘোষণা নেই। যা উল্লেখ রয়েছে, তা মূলত সাধারণভাবে বনজ সম্পদ ও আদিবাসী উন্নয়ন সংক্রান্ত বিস্তৃত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

প্রবীণদের জন্যও এই বাজেট তেমন উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তির কথা নেই। খড়্গপুরের বুলবুলচটির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার বীরেন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, ‘‘সিগারেট, মদে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা ও জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমার ঘোষণা প্রশংসনীয়। তবে প্রবীণদের ঝুলি ফাঁকা। আশা করেছিলাম যে প্রবীণদের সঞ্চয়ে সুদ বৃদ্ধি, রেলের ভাড়ার ছাড়ের মতো কিছু শুনতে পাব। হতাশ হলাম।’’ ঘাটাল শহরের বাসিন্দা অমল মিশ্রের প্রশ্ন, ‘‘নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমল কই?’’ তবে বাজেটে ক্যানসার, ডায়াবেটিস-সহ ১৭ রকম জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমানোর প্রস্তাব শুনে গোয়ালতোড়ের প্রবীণ শিক্ষক শঙ্কর মহাপাত্রের মন্তব্য, ‘‘প্রবীণ নাগরিকদের এতে সুবিধা হতে পারে।’’

রয়েছে অন্য মতও। বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর, দুর্গাপুর শিল্প নোড ও পর্যটন উন্নয়নের মতো একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। যা শিল্প সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ী মহলের একাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক চন্দন বসু অবশ্য বলছেন, ‘‘এমএসএমই-র (ক্ষুদ্র- মাঝারি শিল্প) ক্ষেত্রে সদর্থক কিছু পদক্ষেপ হয়েছে। এটা শিল্প সহায়ক হবে।’’ তিনি জুড়েছেন, ‘‘ডেডিকেটেড ফ্রেড করিডর তৈরির কথা বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে। ২০১৬ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সুবিধা হয়।’’

ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অজিত মাহাতোর দাবি, “জঙ্গলমহলের ছবি বদলেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই অঞ্চলের জন্য আলাদা কোনও প্রকল্পই নেই।” তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক দীনেন রায়ের কটাক্ষ, ‘‘বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি রয়েছে।’’ সিপিএমের ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক প্রদীপকুমার সরকারের কটাক্ষ, “এই বাজেট করিডর আর কর্পোরেটমুখী। পিছিয়ে পড়া এলাকার জন্য কোনও পরিকল্পনা নেই।”

বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডু অবশ্য মনে করছেন, ‘‘শিল্প করিডর ও ফ্রেট করিডরের সুফল জঙ্গলমহলেও পৌঁছবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

jangalmahal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy