E-Paper

ভোটের ব্যস্ততা, বাড়ছে গ্যাসের কালোবাজারি

গ্রাহকেরা অভিযোগ করছেন, সরবহারকারী সংস্থাদের লোকজনের একাংশ ওটিপি জেনে নিয়ে পরে সিলিন্ডার দেওয়ার কথা বলছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:২৭
গ্যাস নিয়ে ঘরের পথে। হলদিয়ায়।

গ্যাস নিয়ে ঘরের পথে। হলদিয়ায়। নিজস্ব চিত্র।

ভোটের দামামা বাজতেই যেন চাপা পড়েছে গ্যাস সঙ্কটের প্রসঙ্গ। নির্বাচনী কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত হয়েছে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। অভিযোগ, এই সুযোগে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি শুরু হয়েছে। জেলার কোথাও কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার দু’হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। ভোটের বাজারে কি গ্যাসের এই কালোবাজারির দিকে নজর দেবে না প্রশাসন— প্রশ্ন জনতার।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে দেশে গ্যাসের জোগান নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছিল। গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে বাড়তি নজর দিতে বলেছিলেন। তবে সেই নজরদারি হচ্ছে না বলে দাবি। কাঁথি শহরের এক হোটেল মালিক বলছেন, ‘‘বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না। এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার খোলা বাজারে দু’হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’’

গ্রাহকেরা অভিযোগ করছেন, সরবহারকারী সংস্থাদের লোকজনের একাংশ ওটিপি জেনে নিয়ে পরে সিলিন্ডার দেওয়ার কথা বলছেন। গ্রাহক পরে সেই সিলিন্ডারের খোঁজ করলে জানতে পারছেন, ওই ওটিপি দিয়ে আগেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করা হয়েছে। নয়াপুটের বাসিন্দা কৃষ্ণা গিরি বলছেন, ‘‘বাড়ির কাছে একজন এজেন্ট ভর্তি সিলিন্ডার দেন। বুকিং করে ওটিপি পেয়েছিলাম। তবে পরে দেখি, আমার নামে গ্যাস তোলা হয়ে গিয়েছে। আবার ৪৫ দিন পর বুকিং করতে পারব।’’ কাঁথির ডরমিটরি সংলগ্ন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দোকানে গিয়েছিলেন এক যুবক। তিনিও বলছেন, ‘‘গ্যাস বুকিং করার পর এজেন্টকে ওটিপি দেখাই। বলেছিল, কাঁথিতে গিয়ে সিলিন্ডার আনতে হবে। এখানে এসে জানতে পারি ওই ওটিপি ব্যবহার করে আগেই সিলিন্ডার তুলে নেওয়া হয়েছে।’’

কিন্তু ওই সব সিলিন্ডার যাচ্ছে কোথায়? খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রুটের অটোতে ব্যবহার করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। কাঁথি শহর থেকে রসুলপুর, নাচিন্দা, পেটুয়াঘাট, মন্দারমণি, রামনগর, সাতমাইল, কাঠপুলবাজার, মশাগা রাস্তায় কয়েকশো অটো চলে। সিএনজি চালিত হলেও সেগুলিতে এলপিজি গ্যাস ভরা হচ্ছে। সমস্যার কথা মানছেন সরবরাহকারীরাও। বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা জানাচ্ছেন, যাঁরা খোলা বাজারে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করছেন, তাঁরাই গ্রাহকদেরকে নিয়ে এসে সিলিন্ডার নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

এলপিজি গ্যাস, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য ঠিক মতো ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, অধিক পরিমাণ মজুত করছে কি না, সে সব খতিয়ে দেখতে প্রতিটি জেলায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ রয়েছে। তবে পূর্ব মেদিনীপুরে গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে তাদের অভিযান হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এলপিজি গ্যাসের বেনিয়ম ঠেকাতে জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়া হয়েছে। সেই কমিটির নজরদারিও নেই বলে দাবি। যদিও জেলাশাসক ইউনুস রিশিন ইসমাইল বলছেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা কোথায় ঘটছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contai LPG cylinders

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy