E-Paper

কাজের টোপে বিক্রি, উদ্ধার কিশোরী

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৮ এপ্রিল সকালে কুকড়াহাটি ফেরিঘাটে এক কিশোরী ঘোরাঘুরি করছিল। তাকে উদ্ধার করে সুতাহাটা থানার পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:১৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

সাত সকালে ফেরিঘাটে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এক কিশোরী। বয়স সতেরোর কোঠায়। প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুরে ভোট-পর্ব মিটলেও বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে পুলিশের নজরদারি। টহলরত পুলিশই ওই কিশোরীকে দেখতে পায়। তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ভিন্‌ জেলার বাসিন্দা ওই কিশোরীকে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই জেলায় এনে এক হোটেলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ওই কিশোরীর বয়ান মতো আপাতত হোটেলের মালিক এবং মধ্যস্থতাকারী এক মহিলাকে পুলিশ খোঁজ করছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৮ এপ্রিল সকালে কুকড়াহাটি ফেরিঘাটে এক কিশোরী ঘোরাঘুরি করছিল। তাকে উদ্ধার করে সুতাহাটা থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরী জানিয়েছে, তার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। পূর্ব মেদিনীপুরের একটি হোটেলে তাকে কাজের প্রতিশ্রুতিতে আনা হয়েছিল। সে সেখান থেকে লুকিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু বাড়ি যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই ফেরিঘাটে ঘোরাঘুরি করছিল।

কিশোরীকে আপাতত হোমে রাখা হয়েছে। আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে আদালতে তার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে। সেই মতো প্রস্তুতি শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে কী ভাবে ওই কিশোরী জেলায় এসেছিল? পুলিশ তদন্তেজানতে পেরেছে, দেড় মাস আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক মহিলার সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় হয়। ওই মহিলা ভাল কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে নিয়ে এসেছিল। পরে এক হোটেল মালিক প্রশান্ত ভক্তার কাছে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে হোটেল মালিক প্রশান্ত এবং ওই মধ্যস্থতাকারী মহিলা রূপার (নাম পরিবর্তিত) বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে সুতাহাটা থানার পুলিশ। তবে দুই অভিযুক্তই বেপাত্তা বলে দাবি।

যে এলাকায় ওই কিশোরীকে বিক্রি করা হয়েছে বলে খবর, সেখানকার একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু হোটেলে ভাল কাজের প্রতিশ্রুতিতে বিভিন্ন জেলা থেকে মহিলাদের এনে বিক্রি করার অভিযোগ আগেও উঠেছে। মহিলাদের একাংশকে অসামাজিক কাজেও লাগানো হয়ে বলে দাবি। ২০১৫ সালেও এ রকম ভাবে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, সে তার প্রেমিকাকে ওই এলাকার হোটেলে বিক্রি করে দিয়েছে। পরে ওই যুবতীকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সব হোটেল মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ করে না। এ ক্ষেত্রেও আপাতত অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলছেন, ‘‘অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sutahata

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy