Advertisement
E-Paper

ফের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাতি মৃত্যুর অভিযোগ 

বৃহস্পতিবার সকালে ধান জমি সংলগ্ন মোরাম রাস্তার ধারে ওই হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখা যায়। লকাট গ্রামের ওই চত্বরে বেশ কিছু তালগাছ রয়েছে। গাছ নাড়িয়ে পাকা তাল ফেলে খায় হাতিরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০১৯ ০০:০১
 হাতির দেহ। নিজস্ব চিত্র

হাতির দেহ। নিজস্ব চিত্র

লালগড়ের লকাট গ্রামে একটি পূর্ণবয়স্ক হস্তিনীর মৃত্যু ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ধান জমি সংলগ্ন মোরাম রাস্তার ধারে ওই হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখা যায়। লকাট গ্রামের ওই চত্বরে বেশ কিছু তালগাছ রয়েছে। গাছ নাড়িয়ে পাকা তাল ফেলে খায় হাতিরা। মৃত হাতিটির মুখে তালের আঁটি পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা, চাষের জমির চারপাশে ফেলে রাখা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই ওই হস্তিনীর মৃত্যু হয়েছে।

মেদিনীপুরের ডিএফও সন্দীপ বেরোয়াল অবশ্য বলেন, ‘‘ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে মৃত্যুর কারণ বলতে পারব। এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু পাইনি।’’ গত ৯ জুলাই রাতে বিনপুরের সাতবাঁকি গ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগের হাইটেনশনের ঝুলে পড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনটি হাতির মৃত্যু হয়েছিল। তার ময়নাতদন্তে দু’টি স্ত্রী হাতির গর্ভে দু’টি মৃত শাবক মিলেছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনে হাতির দল বিনপুর থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে লালগড় এলাকায় চলে এসেছে। অভিযোগ, সেই দলের উৎপাতে গত এক সপ্তাহে লালগড়ের লকাট, কাঁটাপাহাড়ি, ধানঘোরি, পূর্ণাপানি, মেলখেড়িয়া, হাড়ুলিয়া, কুমারবাঁধ, বাঁশবেড়, টেসাবাঁধের মত গ্রামে কয়েকশো বিঘে জমির রোয়া ধানের ক্ষতি হয়েছে। গত রবিবার লালগড়ের ডাইনটিকরি গ্রামে হাতির দলের একটি হাতির হানায় এক মহিলার মৃত্যুও হয়। মৃত হস্তিনীটি সেই দলের সদস্য হতে পারে।

হস্তিনীটির মৃত্যু চাষের জমির পাশে রাখা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়েছে বলে স্বীকার না করলেও জমির পাশে বিদ্যুৎবাহী তার ফেলে রাখার কথা মেনেছেন লকাট গ্রামের কয়েকজন চাষি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, হাতির দল এসে ধান ও আনাজের ক্ষতি করছে। তাতে বাধ্য হয়েই কেউ কেউ রাতে জমির চারপাশে বিদ্যুৎবাহী লোহার তার বিছিয়ে রাখছেন।

রাজ্য বন্যপ্রাণ শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যপ্রাণিকে হত্যা করা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বিধান রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এক প্রাণিচিকিৎসকের অভিযোগ, ‘‘গত কয়েক বছরে এভাবে বেশ কিছু হাতির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এমন অভিযোগ এনে আইনি পদক্ষেপ করা হলে এলাকায় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কায় বন দফতর মৃত্যুর কারণ আড়ালে করে।’’

অবসরপ্রাপ্ত বনকর্তা সমীর মজুমদার জানান, বিভিন্ন জায়গায় ফসল বাঁচাতে বন দফতরের উদ্যোগে পরিখা (এলিফ্যান্ট প্রুফ ট্রেঞ্চ) খনন করা হয়েছে। কিছু গ্রামে বন দফতরের উদ্যোগে ব্যাটারি চালিত অল্প বিদ্যুৎবাহী (এতে হাতির ক্ষতি হয় না) তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরামর্শ, ‘‘হাতির দল যেখানে ক্ষয়ক্ষতি করছে সেখানে বন দফতরের অনুমোদিত বৈধ অল্প শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎবাহী তারের বেড়া দিলে এই সমস্যা কিছুটা হলেও মিটবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy