Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০২ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

কংগ্রেসের ঘর ভেঙে চমক দিল বিজেপি

রেলশহরের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে রীতিমতো চমক দিল বিজেপি। বিদায়ী কংগ্রেস কাউন্সিলর বি মুরলিধর রাওকে একেবারে প্রার্থী করে দিল গেরুয়া শিবির।

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেদিনীপুর ও খড়্গপুর ২৩ মার্চ ২০১৫ ০০:৩৭
Save
Something isn't right! Please refresh.
জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়ের হাতে বিজেপির তালিকা। —নিজস্ব চিত্র।

জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়ের হাতে বিজেপির তালিকা। —নিজস্ব চিত্র।

Popup Close

রেলশহরের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে রীতিমতো চমক দিল বিজেপি। বিদায়ী কংগ্রেস কাউন্সিলর বি মুরলিধর রাওকে একেবারে প্রার্থী করে দিল গেরুয়া শিবির। রবিবার মেদিনীপুরে বিজেপি-র প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন দলের জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়। সেখানে সব থেকে বড় চমক ছিল এটিই।

২০১০ সালের নির্বাচনে খড়্গপুরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সিপিএমের প্রতীকে জিতেছিলেন বি মুরলিধর রাও। পরে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। এ বার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডটি সংরক্ষিত। জানা গিয়েছে, মুরলিধর তাই ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কংগ্রেস সেই অনুরোধ রাখতে পারেনি। কারণ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ বার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কংগ্রেসের জোটসঙ্গী খড়্গপুর বিকাশ মঞ্চের সত্যদেও শর্মার। তাই বিজেপি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুরলী। সেই মতো ১৭ নম্বর ওয়ার্ডেই পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হলেন তিনি।

মুরলিধর এ দিন বলেন, “আমি সিপিএম থেকে জয়ী হলেও তৃণমূলের অনুন্নয়ন দেখে অনাস্থা ভোটে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু কংগ্রেসে থেকেও দেখেছি শহরের উন্নয়ন সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। তাই মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে বিজেপিতে এসেছি।” যদিও কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা পুরপ্রধান রবিশঙ্কর পাণ্ডের বক্তব্য, “সাড়ে তিন বছরের তৃণমূল বোর্ড এবং দেড় বছরের কংগ্রেস বোর্ডের থেকে উন্নয়নের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে মুরলি সেই হিসেব ভুলে গিয়ে এ সব কথা বলছেন। আসলে মুরলি আমাদের থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট চেয়েছিল। সেটা আমাদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব ছিল বলেই তিনি বিজেপিতে গিয়েছেন।” অবশ্য কংগ্রেসের থেকে মুরলি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

Advertisement

রেলশহরে মোট ৩৫টি ওয়ার্ড। এ দিন ২৩ নম্বর বাদে বাকি ৩৪টি ওয়ার্ডের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিজেপি। কেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল না? দলের এক সূত্রে খবর, এই ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একজনের। আজ, সোমবার ২৩ নম্বরের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি তুষারবাবুর কথায়, “খড়্গপুরে আমরাই পুরবোর্ড গঠন করব।”

রেলশহরে প্রার্থী বাছাই নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যেমন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে কে প্রার্থী হবেন, তা ঠিক করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় নেতৃত্বকে। ওয়ার্ডটি বিজেপির দখলে রয়েছে। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলারানি অধিকারী। আগে এখান থেকেই বিজেপির প্রতীকে জিতেছেন গৌতম ভট্টাচার্য। ওয়ার্ডটি মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় গৌতমবাবুর বদলে প্রার্থী হন বেলারানিদেবী। এ বার ওয়ার্ডটি সংরক্ষিত নয়। বেলারানিদেবী এবং গৌতমবাবু দু’জনেই ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ছিলেন। ফলে, সমস্যায় পড়েন জেলা নেতৃত্ব। এই ওয়ার্ডে অবশ্য বিদায়ী কাউন্সিলরকেই ফের টিকিট দিয়েছে বিজেপি।

এ দিকে, বাম নেতৃত্ব বারবার শরিকি ঐক্যের কথা বললেও খড়্গপুরের পুরভোটে প্রকাশ্যেই চলে এল আসন বন্টন নিয়ে ফ্রন্টের বিবাদ। কথা ছিল ফরওয়ার্ড ব্লককে আসন ছাড়বে সিপিএম। কিন্তু আসন রফা না করে শনিবার আগেভাগে ১৮টি ওয়ার্ডে নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয় সিপিএম। এ দিন বিকেলে বোগদার দলীয় কার্যালয় থেকে ১৬টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে সিপিআই-ও। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে সিপিআই সূত্রে খবর। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ফব-র জেলা সম্পাদক অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার বলেন, “নিজেদের মতো করে এ ভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় বাম ঐক্যে ফাটল ধরবে। সিপিএম ৩৪ বছর ধরে এই মনোভাব নিয়ে চলাতেই বামফ্রন্টের এই করুণ অবস্থা।”

রবিবার বিকেলে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে খড়্গপুরের টাউন হল প্রাঙ্গণে এক সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকেই এ দিন ঘাটাল মহকুমার রামজীবনপুর বাদে জেলার পাঁচটি পুরসভা (খড়্গপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, ক্ষীরপাই, খড়ার)-এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। এ দিন সভায় দীপকবাবু বলেন, “লোকসভায় বিজেপি খড়্গপুর শহরে অনেক মানুষকে পাশে পেয়েছিল। সেখানে আমাদের কিছু ভুল ছিল। কিন্তু আসন্ন পুরভোটে বিজেপিতে পরাস্ত করে সেই ভুল সংশোধন করতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলের মতো গণতন্ত্রের হত্যাকারী দলের বিরুদ্ধেও লড়াই সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে। এ জন্য বাম দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক তরুণবাবুও বলেন, “এই নির্বাচন রাজ্য ও দেশকে বাঁচানোর লড়াই।”

প্রশ্ন উঠছে, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপিকে আসন না ছেড়েই কেন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হল? জবাবে দীপকবাবুর দাবি, বাম দলগুলির মধ্যে সহমতের ভিত্তিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। যদিও রবিবার ফব-র জেলা সম্পাদক অশোক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “খড়্গপুরে দু’টি আসনে আমরা প্রার্থী দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা মঞ্জুর না হওয়ায় ১৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে দল পৃথকভাবে প্রার্থী দেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বামফ্রন্টের রাজ্য নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানাবো।” এ দিনও তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএমের কিছু নেতার এই একরোখা মনোভাবের জন্যই আজ বামেদের এই হাল।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement