স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের হাতেকলমে কাজ শেখাতে এ বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ করবে ‘প্রফেসর ইন প্র্যাকটিস’। ইতিমধ্যেই সিন্ডিকেটে ছাড়পত্র পেয়েছে এই সিদ্ধান্ত।
জানা গিয়েছে, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি কাজের জগতে কেমন দক্ষতার প্রয়োজন, কোন কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করাবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পেশাদারেরা।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যলয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ‘প্রফেসর ইন প্র্যাক্টিস’ নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করতে চলেছে। উপাচার্যের নেতৃত্বে এই কমিটির সদস্যরা স্থির করবেন অধ্যাপক নিয়োগের পরবর্তী রূপরেখা।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নতুন বিধি তৈরি করে নিয়োগ করা হবে।” উপাচার্য আশাবাদী, চলতি বছরই তাঁরা এই নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে ‘প্রফেসর ইন প্র্যাক্টিস’-এর উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তরফ প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শিল্প জগতে বিভিন্ন অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা তো বটেই, প্রয়োজনে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারী, আমলাদেরও নিযুক্ত করা যাবে এই পদে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে যাঁরা পড়াশোনা করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট লাভদায়ক হবে এই পদ্ধতি। যদিও শিক্ষকদের একাংশ দাবি করেছেন, যাঁরা পড়াতে আসবেন তাঁরা যেন শিক্ষাগত উৎকর্ষের মান রাখতে পারেন। কারণ কর্পোরেট ও অ্যাকাডেমিক বিষয় দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই শিক্ষক-অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে যেন যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়, দাবি তাঁদের।
নতুন গঠিত কমিটি ‘প্রফেসর ইন প্র্যাক্টিস’-এর পাশাপাশি এমিরেটস প্রফেসর এবং অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর নিয়োগের বিষয়টিও তত্ত্বাবধান করবে।