জামাইষষ্ঠীর দুপুরে মামার বাড়ি যাওয়ার পথে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক কিশোরের।
বুধবার দুপুরে ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল থানার কুলটিকরি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম স্বপন সিংহ (১২)। তার বাড়ি স্থানীয়
রক্ষনি গ্রামে।
বুধবার মামার মোটর বাইকের পিছনে চেপে স্বপন ও তার ছোট ভাই বছর দশের অঞ্জন পায়রাচালি গ্রামে মামা বাড়িতে যাচ্ছিল। বাইক চালাচ্ছিলেন স্বপনের মামা
তন্ময় সিংহ।
মোটরবাইকে মাঝে বসেছিল অঞ্জন আর বাইকের একেবারে পিছনে ছিল স্বপন। দুপুর আড়াইটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম জেলার কুলটিকরি বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঝাড়গ্রাম-কাঁথি রুটের একটি বেসরকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি ধাক্কা মারে বাইকটিকে। বাসের ধাক্কায় মোটরবাইক থেকে তিনজনেই ছিটকে
পড়ে রাস্তায়।
ওই বাসেরই পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই স্বপনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অঞ্জনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে বাইক চালক তন্ময়বাবুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, শুধু তাঁর মাথাতেই হেলমেট ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বপন বেলদা এলাকার একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র। তার ভাই পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া অঞ্জনও সেখানেই পড়াশোনা করে।
গ্রীষ্মের ছুটিতে দু’জনে বাড়িতে এসেছিল। বাবা রজনীকান্ত সিংহ ও মা সুলেখা সিংহ পেশায় দিনমজুর। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে সপরিবারে নেমতন্ন ছিল পায়রাচালি গ্রামে। দুই ভাগ্নেকে আনতে গিয়েছিলেন তন্ময়। সাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার তোড়জোড় করছিলেন রজনীকান্তবাবু। কিন্তু তার আগেই দুঃসংবাদ পান সিংহ দম্পতি।
পায়রাচালিতে মেয়ে-জামাই ও নাতিদের জন্য পঞ্চব্যঞ্জন রান্না করেছিলেন সুলেখাদেবীর
মা রেণু সিংহ।
আম কেটে পাত সাজানো হয়েছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত সে সব গড়াগড়ি খেয়েছে হেঁসেলেই। শোকের পরিবেশ গোটা এলাকা জুড়ে।