প্রচারের শেষ লগ্নে অবশেষে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বার্তা এল। ঘাটালের প্রার্থীকে পাশের বিধানসভা চন্দ্রকোনায় ডেকে সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সবর্ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “তৃণমূল কথা দিয়ে কথা রেখেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।”
বন্যা প্রতিরোধের এই মাস্টার প্ল্যান ঘাটালের বহু দশকের দাবি। অবশেষে তার বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে রাজ্য সরকারের একক ভাবে বরাদ্দ অর্থে। প্রকল্পের টাকা না দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দোষারোপ করলেও রাজ্য সরকারের তরফে বরাদ্দ টাকায় কাজ শুরুর প্রচারে ভোট-পর্বে সে ভাবে ঝাঁপাতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে। জেলায় বারবার এলেও ঘাটাল এড়িয়ে গিয়েছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে জল্পনাও ছিল তৃণমূলের অন্তরে। শেষমেশ অভি-বার্তা ভোটের আগে চাঙ্গা করেছে নিচুতলার কর্মীদের।
সোমবার চন্দ্রকোনার ছত্রগঞ্জের মাঠে সভা করেন অভিষেক। স্থানীয় ফুটবল মাঠে মঞ্চের সামনেই তৈরি হয়েছিল হেলিপ্যাড। দাসপুর ও চন্দ্রকোনায় তৃণমূলের দুই সুপ্রিমোর পিঠোপিঠি সভা হলেও ঘাটালে সভা না হওয়ায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। তা সামাল দিতে ছত্রগঞ্জের সভায় চন্দ্রকোনার প্রার্থী সূযর্কান্ত দোলইয়ের সঙ্গে ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারকেও ডাকা হয়। ডাকা হয় ঘাটালের ব্লক সভাপতি-সহ নেতৃত্বকেও।় সোমবার চড়া রোদ উপেক্ষা করেই দেড়টা থেকে কর্মীরা জড়ো হন। অভিষেক পৌঁছন এক ঘন্টা দেরিতে। বিকেল চারটেয় সভা শুরু হয়।ছত্রগঞ্জে ছিল অভিষেকের দিনের তৃতীয় সভা। এসআইআরের পাশাপাশি স্থানীয় নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। কোথায়, কী উন্নয়ন হয়েছে সেই খতিয়ান দেন। আলু চাষের এলাকায় চন্দ্রকোনায় এসে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “চন্দ্রকোনা তো আলুর আড়ত। এই বছর খুব বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। বাড়তি আলু হলেও দাম পাননি চাষিরা। এটা নিয়ে বিজেপি মিথ্যা অপপ্রচার করছে। ভিন্ রাজ্যে আলু পাঠানো নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।কৃষক দিবসের দিন টুইটারে সে কথা মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন।” সঙ্গে আশ্বাস, “আগামী বছর এ রকম আর হবে না। সরকার বাড়তি আলু নায্য দামে কিনে নেবে। অভাবী আলু বিক্রি করতে হবে না।”
অভিষেকের দাবি, “কৃষকদের নিয়ে মোদী সরকার কিছু করেনি। কৃষক বিরোধী বিল পাশ করিয়েছিল। তৃণমূল চতুর্থবার ক্ষমতায় এসে রাজ্য ৫০টি হিমঘর তৈরি করবে। আলু সংরক্ষণ নিয়ে কোনও চিন্তা থাকবে না।” তাঁর মিনিট তিরিশেকের বক্তব্যে উঠে আসে ঘাটাল-দাসপুরের স্থানীয় নানা সমস্যা। বিধায়ক হওয়ার পরে শ্যামলী ও সূর্যের পাশাপাশি এই এলাকার উন্নয়নে তাঁরও যে নজর থাকবে, সে কথা জানাতেও ভোলেননি অভিষেক।এ দিন বক্তব্যের গোড়াতেই ঘাটাল ও চন্দ্রকোনায় নিজের দলের দুই প্রার্থীর পরিচয় জানিয়ে দুই বিধানসভার দুই পদ্ম প্রার্থীই যে সিপিএম থেকে বিজেপিতে এসেছেন, তা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাটের পাল্টা, “মাস্টার প্ল্যানে মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। টাকা বরাদ্দ হলেও কাজ বন্ধ। তাই ঘাটালে আসতে ভয় পেয়ে চন্দ্রকোনা থেকে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’’
এ দিন চন্দ্রকোনার মঞ্চে এলাকার বিদায়ী বিধায়ক অরূপ ধাড়াও ছিলেন। তবে অভিষেক আসার আগে তাঁর নাম ডাকা হলেও অরূপ বক্তব্য রাখেনি।অভিষেকের কানে সে কথা পৌঁছয়। অভিষেক বলেন, “এখানে অরূপ আছে। চন্দ্রকোনায় আগের মতোই দলের হয়ে সে কাজ করছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)