হাতুড়ে চিকিৎসক-সহ মোট ছয় সিপিএম কর্মীকে খুন করে তাঁদের দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা আদালত। কলকাতা হাই কোর্ট সেই ৪৫ জনেরই জামিন মঞ্জুর করার পর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেলেন সকলে।
শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তির পর ঝাড়গ্রামের শিলদা বাজারে ৪৫ জনের গলায় মালা পরিয়ে মিছিল করল তৃণমূল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতো, বেলপাহাড়ি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বুবাই মাহাতো এবং মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী নিয়তি মাহাতোরা।
১৯৯৩ সালের ৮ মে বেলপাহাড়ি ব্লকের দিয়াশী গ্রামে বেলপাহাড়ির বাসিন্দা এবং তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মহেন্দ্রনাথ হেমব্রম খুন হয়েছিলেন। অভিযোগের তির ছিল সিপিএমের দিকে। তারই পাল্টা হিসাবে দিয়াশী গ্রামের ছয় সিপিএম কর্মীকে খুনের অভিযোগ ওঠে।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে এঁটেলা গ্রামের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে দিয়াশী গ্রামের বাসিন্দা ভক্তিপদ মাহাতো, কার্তিক মাহাতো, বিদ্যুৎ মাহাতো, মাধব মাহাতো, হিজলা গ্রামের মনোজ গড়াই এবং শিলদা গ্রামের হাতুড়ে চিকিৎসক সমীর মুখ্যোপাধ্যায়ের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার দিন ভক্তিপদের বাবা নিত্যানন্দ মাহাতো বেলপাহাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই ঘটনায় মোট ১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পুলিশ ১০৩ জনকে গ্রেফতার করে। তবে একই বছরের বিভিন্ন সময়ে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে ১৯৯৩ সালের ২১ অগস্ট পুলিশ ১০৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে এবং ২৭ জন সাক্ষীর নাম নথিভুক্ত করে। ওই ১০৩ জনের মধ্যে ৪৫ জন বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও নিরুদ্দেশ বলে জানা গিয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ৪৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১০ জুন জেলা আদালত থেকে ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয় মামলা। ওই বছরের ১৭ জুলাই মামলার চার্জ গঠন হয় এবং ১৮ অগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পুলিশ, চিকিৎসক ও গ্রামবাসী মিলিয়ে মোট ১৫ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন:
তার পর গত ৮ ডিসেম্বর আদালত ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ ডিসেম্বর বিচারক তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।
অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যেরা ছত্রধরেরর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। গত ২১ এপ্রিল হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে ৪৫ জনেরই জামিন মঞ্জুর করে।