বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের হস্টেলে জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ দেখালেন পড়ুয়ারা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা বিক্ষোভের জেরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিমাইচাঁদ মাসান্ত-সহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা বাইরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কাউকেই কলেজে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে, পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। বিক্ষোভ উঠে যাওয়ার পর জল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের তিনটি হস্টেলের মধ্যে দু’টি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস। হস্টেলের অবস্থা তথৈবচ। উই লেগে ‘সাফ’ হস্টেলের দরজা-জানলা। জলের পাইপ লাইনে ফাটল থাকায় বেশিক্ষণ ট্যাঙ্কে জল থাকে না। তার উপর আবার লো-ভোল্টেজের দরুন প্রায়ই জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে গত বুধবার থেকে তিনটি হস্টেলে জল সরবরাহ বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার ছিল জন্মাষ্টমীর ছুটি। অভিযোগ, এ জন্য দিনভর নির্জলা থাকতে হয় আবাসিকদের। বন্ধ ছিল রান্নাও। এ জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করে শুক্রবার কলেজের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা।
কলেজের হস্টেলে মোট আবাসিক আসন সংখ্যা ২৬৬ জন। প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের জন্য এখনও হস্টেলের কাউন্সেলিং হয়নি। ফলে, এখন কেবল দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের ১৪০ জন আবাসিক ছাত্রছাত্রী তিনটি হস্টেলে থাকেন। আবাসিক পড়ুয়া মদনমোহন হাজরা, শুভম প্রতিহার, লক্ষ্মীপ্রিয়া ষড়ঙ্গীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে হস্টেলের নানা সমস্যার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, হস্টেলে কোনও স্থায়ী সুপার নেই। ছাত্রীদের হস্টেলে ‘মেট্রন’ও নেই। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান অভিজিৎ দত্ত দু’টি ছাত্রাবাসের ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে। ছাত্রীনিবাসের ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে আছেন বাংলার শিক্ষিকা বৈশাখী কুণ্ডু। তাঁরা কেউই হস্টেলে থাকেন না। হস্টেলের সমস্যা নিয়েও তাঁরা মাথা ঘামান না বলে অভিযোগ। সমস্যার কথা জানিয়েও লাভ হয়নি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজে এলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আবাসিক পড়ুয়ারা। এর পরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। বিদ্যুৎ দফতর ও পূর্ত দফতরের লোকেরা আসেন। তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। আন্দোলনকারী এক ছাত্রী অসুস্থ হওয়ায় পুলিশের উদ্যোগে তাঁকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ঝাড়গ্রাম থানার আইসি তানাজি দাসের হস্তক্ষেপে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিক্ষোভ ওঠে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিমাইচাঁদ মাসান্ত বলেন, “হস্টেলের সমস্যা অস্বীকার করছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ না আসায় পূর্ত দফতর কাজ শুরু করতে পারেনি।” হস্টেল চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার হয় না কেন? নিমাইবাবুর দাবি, “এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানাননি। তবে কর্মীও পর্যাপ্ত নেই।”
এ বিষয়ে হস্টেল সুপার অভিজিৎ দত্ত বলেন, স্থায়ী সুপার পদটি খালি থাকায় পর্যায়ক্রমে শিক্ষকরা দায়িত্ব নেন। গত বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে আছি। হস্টেল ভবনগুলির সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানিয়েছি। গত ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এই সংক্রান্ত প্ল্যান এস্টিমেট বিকাশ ভবনে জমা দিয়েছেন।”
কলেজ সূত্রের খবর, তিনটি হস্টেল ভবন সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকার প্ল্যান এস্টিমেট বিকাশ ভবনে শিক্ষা অধিকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পূর্ত দফতরকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ
দেওয়া হয়নি।