Advertisement
E-Paper

ইয়াস-বিধ্বস্ত শিল্পশহরে দেখা নেই বিজেপি-র বিধায়কের, ক্ষোভ বাড়ছে হলদিয়াবাসীর

ইয়াসে হলদিয়া বিধানসভা এলাকার সিংহভাগ অংশ প্লাবিত। অথচ সেখানকার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের দেখা না মেলায় ক্ষুব্ধ হলদিয়ার মানুষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২১ ০৭:৫৭
বিধায়ক তাপসী মণ্ডল এলাকায় আসছেন না বলে অভিযোগ।

বিধায়ক তাপসী মণ্ডল এলাকায় আসছেন না বলে অভিযোগ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন শিল্পশহরে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তখনও তাঁর বিরুদ্ধে মানুষের পাশে না থাকার অভিযোগ উঠেছিল। হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে শিল্পশহর জলমগ্ন হওয়ার পরেও।

ইয়াসে হলদিয়া বিধানসভা এলাকার সিংহভাগ অংশ প্লাবিত। অথচ সেখানকার বিধায়কের দেখা না মেলায় ক্ষুব্ধ হলদিয়ার মানুষ। সমুদ্র, নদীতে জলোচ্ছ্বাসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বেশিরভাগ অংশ জলের তলায়। বাদ যায়নি হলদিয়াও। হলদিয়া পুর এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড প্লাবিত। পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর চাষের জমির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বহু কাঁচা বাড়ি এবং পাকা বাড়ির। ভেসে গিয়েছে মাছের ভেড়ি ও ইটভাটা। এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ ত্রাণশিবিরে। প্রশাসনের তরফে সকাল-বিকাল ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সেই মানুষগুলোর পুনর্বাসন হবে কিনা তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, হলদিয়া বাসীর এমন দুর্দশার দিনে পথে নামতে দেখা যায়নি স্থানীয় বিধায়ক তাপসী মণ্ডলকে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘ভোটের আগে পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন বর্তমান বিধায়ক। কিন্তু ভোটের পর থেকে কার্যত তাঁর দেখা মিলছে না।’’ অনেকে বলছেন, রাজ্য সরকারের দেওয়া কোনও জিনিস না নেওয়ার জন্য এক সময় বিজেপির নেতা-কর্মীরা বলেছিলেন। আশ্বাস দিয়েছিলেন পাশে থাকার। অথচ এখন তাদের দেখ নেই। ফলে রাজ্য সরকারের ত্রাণের উপরেই তাঁরা ভরসা করে আছেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে চৈতন্যপুর পঞ্চায়েতে প্রায় ১৯০০ ভোটে এবং কুকড়াহাটি পঞ্চায়েতে প্রায় ৯০০ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। চৈতন্যপুর পঞ্চায়েতের মনিরামপুরে ত্রাণশিবিরে আছেন বিজেপি কর্মী একাদশী প্রধান। তিনি বলেন, ‘‘ত্রাণশিবিরে এসে বিধায়ককে ফোন করেছিলাম। বিধায়ক বললেন যা খরচা হচ্ছে হিসাব করে রাখ। পরে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। বিধায়ক ত্রাণ শিবিরে আসেননি। শুধুই আশ্বাস মিলেছে।’’ কুকড়াহাটি পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সেখ সিরাজ এলাকায় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। সারারাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন হুগলি নদীর বাঁধ। সিরাজের আক্ষেপ কুকড়াহাটির এড়িয়াখালি থেকে ঘুরে গেলেও বিধায়ক হরিবল্লভপুরে একবারও আসেননি।’’ পুরসভার ২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৬টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। ইয়াসে বেশ কিছু ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত। শাসক দলের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেখা যাচ্ছেনা বিধায়ককে।

মঙ্গলবার থেকে এলাকায় রয়েছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দীপক পন্ডা। সারাদিন বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা জনপ্রতিনিধি। মানুষের বিপদে পাশে থাকাটা নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি। বিধায়ক বিপদে মানুষের পাশে থাকা নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করেননি। তাই এলাকায় আসেন নি। মানুষ দেখতে পাচ্ছেন বিপদে কারা তাদের পাশে আছেন।’’

তাপসী মণ্ডলের অবশ্য দাবি, ‘‘আমি চেষ্টা করছি সব জায়গায় যাওয়ার।’’ তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূলের কর্মীরা অনেক জায়গায় তাঁকে বাধা দিচ্ছে।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy