E-Paper

৪০ শতাংশ বুথে ‘লিডেই’ জয় দেখছে বিজেপি

গোপীবল্লভপুর বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৯৩। ভোট পড়েছে ৯২.৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ভোটের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজারের কিছু বেশি।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট পরবর্তী অঙ্কে গোপীবল্লভপুর বিধানসভা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে বিজেপি শিবিরে। পোলিং এজেন্টদের রিপোর্ট এবং সংগঠনের নিচুতলার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পদ্ম শিবিরের দাবি, এই কেন্দ্রের মোট বুথের প্রায় ৫৫ শতাংশে ভাল ফল হবে বলে তারা আশাবাদী। তারা মনে করছে, শেষ পর্যন্ত যদি মোট বুথের অন্তত ৪০ শতাংশ বুথেও স্পষ্ট লিড থাকে, তাহলেও গোপীবল্লভপুর জিতবেন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, এই কেন্দ্রের ফল যাবে তাদের দিকেই।

গোপীবল্লভপুর বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৯৩। ভোট পড়েছে ৯২.৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ভোটের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজারের কিছু বেশি। বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যেসব বুথে তারা এগিয়ে সেখানে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, আর যেখানে পিছিয়ে সেখানে ব্যবধান তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিজেপি শিবিরের ব্যাখ্যা, গোপীবল্লভপুরে মোট বুথ সংখ্যা ৩০২। সেই হিসাবে ৪০ শতাংশ মানে প্রায় ১২১টি বুথ। এই বুথগুলির বড় অংশই কুর্মি অধ্যুষিত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি ভোটার ও বেশি ভোটদানের এলাকা। ওই বুথগুলিতে পদ্ম প্রার্থীর পক্ষে লিডের ব্যবধান বেশি হবে। বাকি বুথগুলিতে পদ্ম প্রার্থী পিছিয়ে থাকলেও তা খুব বেশি ভোটের ব্যবধানে হবে না। তাই সামগ্রিক হিসাবে মোট ভোট বিজেপির পক্ষেই থাকবে।

এই কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশ কুর্মি ভোটার। তাঁদের ভোটই এই কেন্দ্রের দিকনির্দেশ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের আগে থেকেই কুর্মিদের একাংশ এবার ‘তৃণমূলকে ভোট নয়’ স্লোগান তুলে সক্রিয় হয়। নির্বাচনী প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে নরেন্দ্র মোদী কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দেন। কুর্মিদের জাতিসত্তার দাবির বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন অমিত শাহ। গোপীবল্লভপুরের বিজেপির প্রার্থী রাজেশ মাহাতো নিজে দীর্ঘদিন কুর্মি সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজেপির দাবি, এই সব কারণেই কুর্মি অধ্যুষিত বুথগুলিতে তাদের পক্ষে ভোটের স্রোত তৈরি হয়েছে। কুর্মি সামাজিক সংগঠন ‘আদিবাসী নেগাচারী কুর্মি সমাজে’র মহামোড়ল অনুপ মাহাতোও বলেন, “আমাদের পর্যবেক্ষণ, ১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কুর্মিদের সিংহভাগ ভোট রাজেশ পেয়েছেন।” গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় বিজেপির ইনচার্জ যুগজিৎ পালুইয়ের কথায়, “গ্রাউন্ড লেভেলে আমাদের রিপোর্ট খুবই ইতিবাচক। কুর্মি অধ্যুষিত এলাকায় গরিষ্ঠসংখ্যক ভোট আমাদের প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর পক্ষে পড়েছে বলে সংগঠনগত মূল্যায়নে উঠে এসেছে।”

গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অজিত মাহাতো। যিনি নিজেও কুড়মি। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বিজেপির জয়ের তত্ত্ব উড়িয়ে বলছেন, ‘‘কয়েকটা বুথের হিসেব দিয়ে পুরো ফল নির্ধারণ করা যায় না। মানুষের সমর্থন তৃণমূলের দিকেই রয়েছে, ফল প্রকাশ হলে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

কার দাবি সঠিক, উত্তর মিলবে ইভিএম খুললে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Gopiballavpur BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy