দু’রাউন্ড গুলি ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ পুলিশ সুবিমল দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে সে এলাকায় লোকজনদের ভয় দেখাত। তার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে। ধৃতকে জেরা করে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ওসির নেমপ্লেট-সহ অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টরের ব্যাজ। ধৃত ব্যক্তি কী কারণে গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র ও পুলিশের নেম প্লেট রেখেছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পটাশপুর থানার সাউৎখন্ড পঞ্চায়েতের শুকাখোলা গ্রামের বাসিন্দা সুবিমলের বাবা চিত্ত দাস দলিল লেখক থাকাকালীন সে পটাশপুরে রেজিস্ট্রি অফিসে মুহুরির কাজ করতো। বাবার মৃত্যুর পর বর্তমানে সে পটাশপুর-২ ভূমি ও রাজস্ব দফতরে মুহুরির কাজ করে। এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত সুবিমলের বিরুদ্ধে ভোটের আগে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। মাঝেমধ্যে বন্দুক হাতে সে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত বলেও অভিযোগ। এমনকী এলাকার মানুষকে ভয় দেখাতে গুলি ছোড়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তাতে কেউ হতাহত হয়নি। এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের একাধিক ঘটনায় সুবিমল জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পটাশপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে বন্দুক-সহ গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি দেশি বন্দুক, দু’রাউন্ড গুলি ও চারটি বোমা। শনিবার ধৃতকে কাঁথি আদালতে তোলা হলে বিচারক তার পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের কাছ থেকে ভবানীপুর থানার বর্তমান ওসির নেমপ্লেট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টরের ব্যাজ পাওয়া গিয়েছে। তবে পুলিশের কোনও পোশাক পাওয়া যায়নি। কেন সে পুলিশের নেমপ্লেট ও ব্যাচ রেখেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ধৃতের বিজেপি যোগ নিয়ে সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিজেপির পটাশপুর-১ মধ্য মণ্ডলের সভাপতি সুমিত জানা দাবি করেছেন, ‘‘ধৃত ব্যক্তি আমাদের দলের কর্মী নয়। তৃণমূলেরই সক্রিয় কর্মী। এলাকায় তৃণমূল রাজনৈতিক স্বার্থে তাকে ব্যবহার করেছিল।’’
পটাশপুর-১ ব্লক তৃণমূলর সভাপতি মৃণালকান্তি দাসের পাল্টা দাবি, ‘‘অভিযুক্ত সরাসরি বিজেপি দলের কর্মী। এখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তৃণমূলের উপর মিথ্যা দায় চাপাচ্ছে বিজেপি। ভোটের সময় এলাকা দখলে বিজেপি এই সমস্ত দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করেছে। পুলিশকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’’