E-Paper

পদ্মের অনেক নেতার সভা বাতিল, হতাশা

অন্য ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে কিছু। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের হিন্দি ভাষণ বুঝতে না পেরে এ দিন অনেকে বক্তৃতা চলাকালীন মাঠ ছেড়ে চলে যান।

নিজস্ব প্রতিনিধি

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কেউ নেতা, কেউ অভিনেতা। এ বারের ভোটে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর-সহ অন্য বিভিন্ন জেলায় বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে ভিন্ রাজ্য থেকে আসা এইরকম নেতা-অভিনেতার ভিড়ই বেশি। তবে শেষ বেলায় এঁদের অনেকেই সময়মতো সভায় পৌঁছতে পারছেন না। সভা বাতিল হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ তীব্র গরমে অপেক্ষার পর নেতা বা অভিনেতা না-আসায় বিরক্ত ও হতাশ হচ্ছেন অপেক্ষমান জনতা।

যেমন সোমবার মহিষাদলের বিজেপির সভায় আসার কথা ছিল অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। কিন্তু তিনি আসেননি। খেজুরিতে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে আসার কথা ছিল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার। বিজেপি সূত্রের খবর, বিকেলে তমলুকে হিমন্তের সভা শেষ হতে দেরি হয়ে যায়। তাঁর কপ্টার পৌঁছতে সমস্যা হতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি আর খেজুরি যাননি। প্রার্থী একাই রোড শো করেছেন। আবার পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতির সমর্থনে মংলামাড়ো মাঠের জনসভায় এ দিন আসার কথা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডার। তীব্র রোদে জনতা অপেক্ষায় থাকার পরে জানতে পারে, নাড্ডা আসছেন না।

অন্য ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে কিছু। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের হিন্দি ভাষণ বুঝতে না পেরে এ দিন অনেকে বক্তৃতা চলাকালীন মাঠ ছেড়ে চলে যান। আরও অভিযোগ উঠেছে, সভাস্থলের পাশেই একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র খোলা ছিল। পড়ুয়ারাও এসেছিল। কিন্তু স্কুল চলাকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সভা হয়। মাইকের প্রবল শব্দে স্কুলে এ দিন পঠনপাঠন হয়নি।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটে রাজ্যের বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাজি, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ একাধিক নেতা ও অভিনেতা এসেছেন।

সোমবার মহিষাদলে প্রচারে নীতির নবীনের মুখে ছিল মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা মহিলা সংরক্ষণ বিল এনেছিলাম, কিন্তু মমতা দিদি সেই বিলের বিরোধিতা করলেন। যদি মুসলিমদের সংরক্ষণ দেওয়ার বিষয় থাকত, তা হলে তিনি সমর্থন করতেন।’’ আরও বলেন, ‘‘যদি কেউ মা-মাটি-মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত করে থাকে, সেটা হল মমতা দিদির সরকার। মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এই রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।’’

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে মমতার কড়া সমালোচনা শোনা গিয়েছে নিতিনের গলায়। তাঁর কথায়, ‘‘এ রাজ্যের মাটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দিয়েছে তৃণমূল। এখানে যেভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা হতে দেব না। তাদের আমরা ডিলিটও করব, ডিপোর্টও করব।’’ বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি এ দিন এগরা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে এগরা শহরের কলেজ মোড় থেকে দিঘা মোড় পর্যন্ত রোড-শো করেন।

এ দিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা তমলুকের বিজেপি প্রার্থী হরেকৃষ্ণ বেরার সমর্থনে আস্তাড়ায় জনসভা করেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হিমন্ত বলেন, ‘‘যদি এ বার পশ্চিমবঙ্গে আমরা সরকার গড়তে না পারি, তা হলে ভবিষ্যতে আর পারব না। আপানারা ভয় পাবেন না। এ বারের ভোটে যারা গুন্ডামি করবে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্ভয়ে ভোট দিয়ে এ বার আমাদের সরকার গড়তেই হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy