গত বছর ১২ জুন। জামবনির এক ঠিকাদার এসেছিলেন খড়্গপুরে। মালঞ্চর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে সমীর পইড়্যা নামে ওই ঠিকাদার অদূরে বেসরকারি এক ব্যাঙ্কে তা জমা দিতে যাচ্ছিলেন। অতুলমণি স্কুলের কাছে রাস্তা পেরনোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতী ২ লক্ষ টাকা সমেত পলিথিনের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। সেই দুষ্কৃতী এখনও অধরা।
চলতি বছরের ১৭ জুন। মালঞ্চর টাটা ব্যাঙ্ক এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী উত্তম দাস দোকান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় গুলিতে জখম হন। একটি গুলি ছিটকে লাগে পথচারী কাঠমিস্ত্রি সুনীল শর্মার গায়ে। অল্পের জন্য রক্ষা পান দু’জনেই। পরে ধরা পড়ে দুষ্কৃতীরা। ছিনতাইয়ের জন্যই গুলি চলেছিল বলে জানায় পুলিশ।
খড়্গপুরের মালঞ্চ রোডে ছিনতাই, গুলি চালনা, খুনের মতো ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে খরিদা বড়বাতি থেকে মালঞ্চ সেনচক পর্যন্ত এলাকায় হামেশাই দুষ্কর্ম ঘটে। এই সড়কেই রয়েছে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক। রয়েছে বহু দোকানপাট। ব্যস্ত এই এলাকায় এ বার তাই সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিল খড়্গপুর পুরসভা। বোর্ড মিটিংয়ে এই প্রস্তাবে সাড়া মেলায় দরপত্র চেয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন পুর-কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, খরিদা ফাঁড়ি থেকে মালঞ্চ সেনচক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কে ৩০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। খরচ ধরা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। এখনও পর্যন্ত তিনটি সংস্থা দরপত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু এই সড়কের কোথায় কন্ট্রোলরুম করা হবে তা নিয়ে এখন ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রাথমিকভাবে মালঞ্চ সুপার মার্কেটের একটি রুমে এই কন্ট্রোলরুম খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন, “পুজোর আগেই শহরের খরিদা ফাঁড়ি থেকে মালঞ্চ সেনচক পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।’’
শুধুমাত্র খরিদা থেকে মালঞ্চ সেনচক কেন? পুরপ্রধানের যুক্তি, “এই মালঞ্চ রোডে বহু দুষ্কর্মের নজির রয়েছে। পেনশনভোগীদের সাইকেলে রশি জড়িয়ে টাকা ছিনতাই করার ঘটনাও ঘটেছে। সিসি ক্যামেরা বসলে এই সড়কে দ্রুত গতিতে যে বাইকগুলি চলে সেগুলিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পরে সারা শহরেই সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।’’
শুধু রেলশহর নয়, সদর শহর মেদিনীপুরেও দুষ্কর্ম ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তোড়জোর শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী পুলিশ। পুলিশের এক সূত্রে খবর, এ নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা হয়েছে। শহরের কোথায় কোথায় সিসিটিভি বসানো হবে, তার একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ৩৭টি পথ দিয়ে মেদিনীপুর শহরে ঢোকা-বেরোনো যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই গলিপথ। সেগুলোও নজরদারি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। আপাতত কেরানিতলা, কালেক্টরেট মোড়, এলআইসি মোড়, ধর্মা, কুইকোটা, নতুনবাজার, রাঙামাটি প্রভৃতি এলাকায় সিসিটিভি বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মেদিনীপুর শহরে ৩৩টি মোড় রয়েছে। এই মোড়গুলোতেও নজরদারি ক্যামেরা বসানোর ভাবনা রয়েছে।
সুরক্ষা বাড়াতে মেদিনীপুরে টহলদারি মোটর বাইকের সংখ্যা বাড়ানো, এএসআই, কনস্টেবল, হোমগার্ডদের নিয়ে পৃথক দল গড়ার ভাবনাচিন্তাও হচ্ছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “এখনও সব কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে মেদিনীপুর শহরের নিরাপত্তায় বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হবে।”
নজর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্তে দুই শহরের বাসিন্দারাই খুশি। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা। খড়্গপুরের মালঞ্চ ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক হৃষিকেন্দু গোপ বলেন, “পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে সিসি ক্যামেরা তো কাজে আসবে ঘটনা ঘটার পরে। কিন্তু দুষ্কর্ম যাতে না ঘটে সেটাও পুলিশকে নিশ্চিত করতেই হবে।’’ মেদিনীপুরের বাসিন্দা অভিষেক নাথ, সৌরভ দত্তরাও বলছেন, “সিসি ক্যামেরা বসানো হলে যেমন অপরাধমূলক কাজ কমবে, তেমনই দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করা যাবে। এটা ভাল উদ্যোগ।”