লক্ষ্য ছিল ১০০ শতাংশ বাসিন্দাকে সাক্ষর করে তোলা। সেই লক্ষ্যপূরণ হয়নি। উল্টে, শিক্ষার হারে এগিয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় বছর সাতেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সাক্ষরতা মিশন কর্মসূচি। আর এই ছবিটা সামনে এসেছে বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ চলাকালীনই।
নিরক্ষর প্রত্যেককে সাক্ষর করে তোলার জন্য জেলার প্রতিটি গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র জন চেতনা কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। একজন করে প্রেরক এবং সহ-প্রেরক নিয়োগ করা হয়েছিল সেখানে। কিন্তু সে সবই এখন অতীত। ২০১২-১৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুরে সাক্ষরতা মিশন অভিযান প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০১২ সালে সাক্ষরতা মিশন প্রকল্পে শিক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য জেলা পরিষদকে এক কোটি ৭২ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের মারফত দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এর পরে নিয়মমাফিক দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু পরে টাকা খরচ করতে না পারায় সবটাই ফেরত চলে গিয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর।
২০২০ সালের জনগণনা প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সাক্ষরতার হার পূর্ব মেদিনীপুরে। যেখানে ২০১১ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৮০.১৬ শতাংশ। বর্তমানে সেই সংখ্যাটা ৮৭.৬৬ শতাংশ। ছ’বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের এই সাক্ষরতার হার জেলায় ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা, তৃতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা এবং সপ্তম স্থানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা রয়েছে। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের সাক্ষরতার হার বাড়লেও সাক্ষরতা অভিযান কর্মসূচি থমকে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রেরক এবং সহ-প্রেরকদের বেশ কয়েক বছর ধরে বেতন দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।
কয়েক বছর ধরে কিন্তু মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে পাশের হারের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। এমন জেলায় সাক্ষরতা মিশন কর্মসূচি ফের চালুর জন্য দাবি করছে সিপিএম। এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা সিপিএম নেতা মামুদ হোসেন বলেন, ‘‘লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরচন্দ্র জন চেতনা কেন্দ্রগুলি খোলা রাখা দরকার। প্রেরক এবং সহ- প্রেরকদের মাধ্যমে বয়স্ক অশিক্ষিতদেরও সাক্ষর করে তোলার জন্য জেলা পরিষদ উদ্যোগী হোক।’’
জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘সাক্ষরতা মিশন কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা ঠিক। তবে মিড-ডে মিল-সহ একাধিক কর্মসূচি চালু রেখেছে রাজ্য সরকার। মিড ডে মিলের জন্য বহু খুদেই স্কুলমুখী হবে। এভাবেই চেষ্টা চলছে।’’
অল্প বয়সীদের এভাবে স্কুলমুখী করা গেলেও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা থেকেই গেল বলে মনে করছে শিক্ষক মহল। তবে গোটা বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ।