E-Paper

যন্ত্রণা সয়েই স্বজনহারারা ভোটে শামিল

ওই ব্লকের হঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বিবিও মারা গিয়েছিলেন গত ২৭ জানুয়ারি।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন আতঙ্কে কারও স্ত্রী মারা গিয়েছেন, আবার কেউ হারিয়েছেন বাবা-মাকে। তবে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা ভুলেই বুথে গিয়ে ভোট দিলেন তাঁরা।

গত বছর নভেম্বরে শুরু হয়েছিল রাজ্যজুড়ে এসআইআর। সেই আবহে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ছ'জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদেরই অন্যতম কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের আমতলিয়া গ্রামের বৃদ্ধা সুষমা মণ্ডল। তাঁর স্বামী প্রসূন মণ্ডলের চোখে জল। ছেলে প্রদ্যুম্ন ভোট দিয়ে বেরিয়ে বলেন, ‘‘মা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। প্রতি বার ভোট এলেই আলাদা ব্যস্ততা থাকত। এ বার ভোটে বাড়ির সবারই মন খারাপ।’’

ওই ব্লকের হঞ্চি গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বিবিও মারা গিয়েছিলেন গত ২৭ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার গ্রামে তৃণমূলের বুথ শিবিরে বসেছিলেন সালেহার দুই ছেলে জাকির উদ্দিন এবং ফারেক উদ্দিন। দুই ভাইয়ের কথায়, ‘‘আমরা তৃণমূল করি তাই দলের কাজে যুক্ত হয়েছি। সাতসকালে ভোটও দিয়েছি।’’ সালেহার স্বামী মাল উদ্দিন খান অসুস্থ। বাড়িতেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘‘দিন কয়েক আগে বাড়িতে এসেই কমিশনের লোকেরা আমার ভোট নিয়ে গিয়েছে। সালেহার কথা খুব মনে পড়ছে।’’

গত বছর ৩ নভেম্বর আচমকা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন রামনগর-১ ব্লকের কাঁটাবনি গ্রামের বাসিন্দা তথা পেশায় ব্যবসায়ী শেখ সিরাজউদ্দিন। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় বাবার নাম থাকলেও উভয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে তিনি মারা গিয়েছিলেন বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়। এ দিন সিরাজের মামা আবু বক্কর আলি বলেন, ‘‘ভাগ্নের বৌ, দুই ছেলে এবং ছ’জন মেয়ে সকলের নাম ছিল ভোটার তালিকায়। তাঁরা প্রত্যেকে ভোট দিয়েছেন।’’

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর রামনগরের সাদি গ্রামের বাসিন্দা বিমল শী-র ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন একটি দফতরে কর্মরত ছিলেন বিমল। এ দিন ভোট দিয়েছেন জানিয়ে বিমলের ছেলে দীপক শী বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছি। বাবার মৃত্যু বেদনাদায়ক। প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু আজও সুবিচার পাইনি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contai SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy