ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত জেলায় এসে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিনই জেলায় তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিজেপি’র কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠল পটাশপুরে পূর্ব বেলদা গ্রামে।
পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলদা ও আলামচক গ্রাম দু’টি রাজনৈতিক ভাবে উত্তেজনা প্রবণ। তৃণমূল ও বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই থাকে। বিজেপি’র অভিযোগ, তৃণমূলের হামলার ভয়ে আলামচক, বেলদা-সহ একাধিক গ্রামের বিজেপি কর্মীরা ভোটের ফল ঘোষণার পরেই বাড়ি ছাড়া ছিলেন। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর ফলে পূর্ব বেলদা গ্রামের রবি বেরা-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গ্রামে ফিরে এসেছিলেন। অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে বেশ কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী রবির বাড়িতে ঢুকে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পরিবারের লোকেরা রবিকে উদ্ধার করে প্রথমে পটাশপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা রবিকে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মানুষ যখন ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় ঘুরছে, তখন তৃণমূলের লোকেরা বিজেপি কর্মীদের মারছে। এমন দিনে সেটা ঘটছে, যেদিন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় বসে রয়েছেন। এটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।’’
উল্লেখ্য, দিঘা থেকে পটাশপুরের ওই এলাকার দূরত্ব আনুমানিক ৬০ কিলোমিটার। বিধানসভা ভোটের প্রায় এক বছর আগে থেকে বেলদা কালীমন্দিরে অস্থায়ী পুলিশ শিবির বসানো হয়েছে। এর পরেও হামলা হওয়ায় কার্যত আতঙ্কিত এলাকাবাসী। বিজেপি’র দাবি, তৃণমূলের ভয়ে আক্রান্তের পরিবার এখনও পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। যদিও পটাশপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। আর পটাশপুর-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পীযূষ পন্ডার দাবি, ‘‘স্থানীয় কয়েকজন দুষ্কৃতী এক যুবককে মারধর করেছে বলে শুনেছি। ঘটনায় তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। পুলিশকে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
আমরাও জানিয়েছি।’’