বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই তপ্ত হচ্ছে জেলার রাজনীতির ময়দান। কোথাও তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া এবং প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের লিফলেট বিলি হচ্ছে। আবার কোথাও বিজেপির পতাকা ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।
নন্দীগ্রামের গা ঘেঁষে খেজুরি এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে রাজনীতির পারদ চড়ছে। অভিযোগ, খেজুরি তৃণমূল প্রার্থী রবীনচন্দ্র মণ্ডলের সমর্থনে তৃণমূলের ব্যানার এবং ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল। সেই সমস্ত কিছু ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে শুক্রবার সকালে খেজুরি-২ ব্লকের খেজুরিতে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।
আবার রবীনচন্দ্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিষয়ক লিফলেট বিলির অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পদ্মফুল প্রতীক দেওয়া ওই লিফলেটের ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তাতে ২০০২ সাল থেকে তৃণমূল প্রার্থীর রাজনৈতিক উত্থান এবং কী ভাবে তিনি বাজকুল মিলনী মহাবিদ্যালয়কে হাতে রেখে দুর্নীতি করেছেন— সে বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী রবীনচন্দ্র বলছেন, ‘‘পরাজয় বুঝতে পেরে বিজেপি এ ধরনের চক্রান্ত করছে। বাজকুল মিলনী মহাবিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটিতে রয়েছে ঠিকই। তবে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা।’’
খেজুরিতে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত পাইকও অস্বস্তিতে। সেখানে তাঁর নামের দেওয়াল লিখনের উপরেই পোস্টার পড়ছে ‘আদি বিজেপি কমিটি’র নামে। তাতে সুব্রতকে সিপিএমের হার্মাদ দাবি করে, তাঁকে প্রার্থী হিসাবে মানা হচ্ছে না বলে উল্লেখ রয়েছে।
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এগরার বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনে লাগানো বিজেপির পতাকা এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এগরা-১ ব্লকের বরিদায়। অভিযোগ, ওই পতাকা এবং ফেস্টুনগুলি ছিঁড়ে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও বিজেপির পোস্টারের উপর তৃণমূলের পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘দলের কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি। তবে তৃণমূল যা করেছে, তা নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)