একশো দিনের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প (ভিবি-জি রাম জি)। রাজ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই থেকে। এর তিন দিন পরে শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। তবে কী কাজ, কোথায় শুরু হয়েছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ জেলা প্রশাসনের।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর, ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পের সব প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। তবে পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির একটা বড় অংশ থেকে এই প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব জমা পড়েনি। এই আবহে এ দিন সকালে সমস্ত বিডিও এবং নির্মাণ সহায়কদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। কোন পঞ্চায়েতকে কতগুলি প্রস্তাব জমা দিতে হবে, বৈঠকে তা যেমন জানানো হয়েছে। তেমনই প্রতি ব্লককে গড়ে তিন হাজার প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, আগে জেলা প্রশাসনের তরফে নির্দেশ ছিল, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্ম সুনিশ্চয়তা প্রকল্পে অতীতে যে সব কাজ হয়েছে, সেখান থেকে ৩০ মিটারের বেশি দূরের কোনও কাজের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। ‘যুক্তধারা’ পোর্টালে সেই সব প্রস্তাব জমা করতে হবে। তার আগে গ্রাম সংসদ সভা আয়োজন করে প্রস্তাব পাস করাতে হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে ২২৩টি পঞ্চায়েতের মধ্যে অধিকাংশ তৃণমূল পরিচালিত। রাজ্যে পালাবদলের পর কোথাও পঞ্চায়েত প্রধান পদত্যাগ করেছেন, আবার কোথাও সদস্যরা অফিসে আসছেন না। ফলে, অধিকাংশ জায়গায় গ্রাম সভা হয়নি এবং প্রস্তাব তৈরিতে সমস্যা হয়েছে। এ কাজের বিষয়ে জেলার একাধিক জব কার্ড প্রাপকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পে এখনও কাজ পাননি। কাঁথি-৩ ব্লকের জবকার্ড প্রাপক লিয়াকৎ খাঁনের কথায়, ‘‘পঞ্চায়েত থেকে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছি। তবে কোথায়, কী কাজ হবে, তা জানি না।’’
এই প্রকল্পে প্রথমে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র সরকারি জমিতে এই প্রকল্পের কাজ হবে। তবে প্রশাসন সূত্রের খবর, এখন জেলায় আইবিএস (ইন্ডিভিজুয়াল বেনিফিসারি স্কিম) নিতে বলা হচ্ছে। অতীতে তৃণমূল সরকারের আমলে আইবিএসে পুকুর খনন এবং গাছ লাগানোর নামে অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ।
কাজ শুরু হয়েছে কি না, তা-স্পষ্ট করে না জানালেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইতের বক্তব্য, ‘‘জেলায় কাজের প্রস্তাব জমা নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সমস্ত পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হবে।’’ আর জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলছেন, ‘‘এই প্রকল্পে বনসৃজন, পুকুর খনন, রাস্তা নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্ষাকালে পুকুর খননে সমস্যা হবে। তাই এখন বনসৃজনে জোর দেওয়া হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)