সতর্ক থাকা উচিত। তবে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বলছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্তারা।
চাহিদা বেশি। জোগান কম। মাস্ক কিনতে শুরু হয়েছে হুড়োহুড়ি। না পেয়ে চিন্তায় ডুবে যাচ্ছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই মাস্ক পরা উচিত।
করোনাভাইরাস নিয়ে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে তা নিয়ে লাগাতার প্রচার শুরু করেছে প্রশাসন। এ বার বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোমগুলিকে সতর্ক করল স্বাস্থ্য দফতর। দফতরের নির্দেশ, বিদেশ থেকে এসেছেন, এমন কোনও রোগীর সন্ধান পেলেই দফতরে খবর দেবেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও পর্যন্ত ২৮ জনকে নজরবন্দি করা হয়েছিল। সকলেই ফিরেছেন বিদেশ থেকে। এই ২৮ জনের মধ্যে ১৬ জন ২৮ দিন ‘হোম আইসোলেশনে’ ছিলেন। বাকি ১২ জনের ‘হোম আইসোলেশন’ এখনও চলছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ঘাটালের এক যুবক। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, বছর আঠাশের ওই যুবক সৌদি আরবে সোনার কাজ করেন। বিয়ের জন্য ঘাটালের বাড়িতে ফেরেন। রবিবার ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামীণ হাসপাতালের কর্মীরা ওই যুবকের বাড়িতে যান। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন। করোনার উপসর্গ না মিললেও তাঁকে ১৪ দিন ‘হোম আইসোলেশনে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম জেলার সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধা জানান, জেলার তিনটি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। জেলায় এখনও পর্যন্ত কাউকে ‘হোম আইসোলেশন’ করার মতো অবস্থায় পাওয়া যায়নি। জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শুভেন্দু মুখোপাধ্যায়কে করোনা-চিকিৎসার জেলার নোডাল অফিসার করা হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যভবন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন।
এ দিন পশ্চিমবঙ্গ আরোগ্য নিকেতন নিয়ন্ত্রক আয়োগের (ওয়েস্টবেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন) উদ্যোগে মেদিনীপুরে একটি সভা হয়। ছিলেন আয়োগের চেয়ারম্যান বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সচিব আরশাদ হাসান ওয়ারশি প্রমুখ। ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক রশ্মি কমল, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা প্রমুখ। বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোমগুলিকে পরিষেবা, পরিবেশ, স্বচ্ছতা এবং আরোগ্যের পাঠ দিতেই এই সভা ডাকা হয়েছিল। বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোমগুলির ঠিক কী করণীয় তা জানানো হয়েছে। করণীয় বিষয়গুলির পাঠ দেন জেলার উপ- মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। সভায় জেলাশাসক বলেন, ‘‘এখানে জনসংখ্যা বেশি। হাটে- বাজারে প্রায় সময়ে জনসমাগম থাকেই। তাই সব সময়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত।’’
সভায় সৌম্যশঙ্কর আরও বলেন, ‘‘করোনায় এ দেশে মৃত্যুহার বেশি নয়। তাই অত ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’’ তবে চেয়েও মাস্ক মিলছে না জেলায়। সভায় সে বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েও সৌম্যশঙ্কর বলেন, ‘‘সবাই মাস্ক পরে ঘুরবেন না। একটা মাস্ক আপনাকে নিরাপত্তা দেবে না। একটা মাস্ক আজীবন কাজ করে না। অনেকদিন ধরে পরা যায় না। পরলে বরং সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি প্রভৃতি হলে তখন মাস্ক ব্যবহার করবেন।’’