দু’টি করোনা হাসপাতাল চালু হয়েছে মেদিনীপুরে। ইতিমধ্যে লেভেল ২ করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক সন্দেহভাজনের মৃত্যুও হয়েছে।
সব দিক দেখে এ বার করোনা হাসপাতালে মৃতদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর। এ জন্য পৃথক ‘ডেথ রিভিউ’ কমিটি গড়া হতে পারে। করোনা হাসপাতালে মৃতদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজবে ওই কমিটি। সব দিক দেখে জেলায় রিপোর্ট পাঠাবে। ইতিমধ্যে করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের জন্য পৃথক মেডিক্যাল বোর্ড হয়েছে। এই বোর্ডে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়েই ওই কমিটি গড়া হতে পারে।
এ নিয়ে অবশ্য খোলসা করতে চাননি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা। তিনি বলেন, ‘‘এটি বিভাগীয় ব্যাপার। এ নিয়ে কিছু বলব না।’’ কিন্তু মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত তো জেলার প্রশাসনিকস্তরেই হয়েছে? করোনা হাসপাতালে এ সংক্রান্ত নির্দেশও পৌঁছেছে? এ বার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের জবাব, ‘‘সব দিক দেখে পদক্ষেপ হচ্ছে।’’ জেলার অন্য এক স্বাস্থ্য আধিকারিক অবশ্য মানছেন, ‘‘করোনা হাসপাতালে মৃতদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খোঁজার চেষ্টা করবেন। ‘ডেথ রিভিউ কমিটি’ও হতে পারে।’’
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে জেলার প্রশাসনিকস্তরে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ছিলেন জেলাশাসক রশ্মি কমল, পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু প্রমুখ। ‘ডেথ রিভিউ’-এর প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, একাধিকস্তরে কাজ হতে পারে। শুরুতে মৃত ব্যক্তির প্রাথমিক কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। করোনা হাসপাতালে নোটিফিকেশন কার্ড পাঠানো হতে পারে কিংবা কার্ড তৈরি করিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হতে পারে। মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে পারেন সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। যাবতীয় তথ্য জমা পড়বে প্রস্তাবিত কমিটির কাছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে জেলায় রিপোর্ট দিতে পারে। মেদিনীপুর মেডিক্যালের এক আধিকারিকের মতে, ‘‘এই পর্যালোচনার ফলে কোথাও সামান্য ভুল হয়ে থাকলেও তা ধরা পড়বে। পরে একই ভুলের সম্ভাবনা কমবে।’’
মেদিনীপুর শহরতলির মোহনপুরের কাছে থাকা করোনা হাসপাতালে ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে— দুই বৃদ্ধ এবং এক যুবকের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এই তিনজনেরই শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল। মেডিক্যালের এক আধিকারিক মানছেন, ‘‘ওই দুই বৃদ্ধ সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস (সারি) রোগী ছিলেন।’’ জেলা প্রশাসনের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, মেদিনীপুরের এই হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি থাকেন, তাঁদের কেউই করোনায় আক্রান্ত নন। সকলেই করোনা নেগেটিভ।