Advertisement
E-Paper

করোনার কবলে মেডিক্যালে ভর্তি বৃদ্ধ, কোয়রান্টিনে ২৭ ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী

করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে মঙ্গলবার রাতে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত হুলুস্থূল চলেছে মেডিক্যালে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২০ ০৪:০৭
করোনা আক্রান্তকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার ব্যস্ততা। মেদিনীপুর  মেডিক্যাল চত্বরে। নিজস্ব চিত্র

করোনা আক্রান্তকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার ব্যস্ততা। মেদিনীপুর  মেডিক্যাল চত্বরে। নিজস্ব চিত্র

এপ্রিলের গোড়ায় এক ভিডিয়ো বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘মেদিনীপুর মেডিক্যালে কিন্তু হ য ব র ল হয়ে যাবে। এটা হতে দেওয়া যাবে না।’ এক করোনা আক্রান্তের হদিস মেলার পরে অনেকটা যেন সেই দশা হল মেডিক্যালে!

করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে মঙ্গলবার রাতে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত হুলুস্থূল চলেছে মেডিক্যালে। দীর্ঘ টালবাহানার পরে এ দিন দুপুরে ওই আক্রান্ত ব্যক্তিকে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বড়মা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে (লেভেল- ৩ এবং ৪ করোনা হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে।

আক্রান্তকে ওই করোনা হাসপাতালে পাঠাতে এত দেরি হল কেন? মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, ‘‘সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরারও দাবি, ‘‘আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত জায়গাতেই পাঠানো হয়েছে।’’ হাসপাতালের অন্য এক আধিকারিকের সাফাই, ‘‘এক সময়ে পরিজনেরা চেয়েছিলেন, কলকাতা কিংবা হাওড়ার কোনও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করাবেন।’’

মেডিক্যাল সূত্রে খবর, করোনা আক্রান্ত বছর পঞ্চান্নের ওই ব্যক্তি হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা। গত সোমবার থেকে তিনি হাসপাতালের মেল মেডিসিন কোল্ড ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তাঁর শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং ছেলেও। শারীরিক পরিস্থিতি দেখে মঙ্গলবার ওই তিনজনেরই করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রাতে রিপোর্ট আসে। দেখা যায়, ওই ব্যক্তি করোনা পজিটিভ। তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের রিপোর্ট নেগেটিভ। রিপোর্ট আসার পরই শোরগোল পড়ে মেডিক্যালে। মেল মেডিসিন কোল্ড ওয়ার্ডে ওই ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলে ছাড়াও অন্য দু’জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ওই ব্যক্তির স্ত্রী ভর্তি ছিলেন ফিমেল মেডিসিন কোল্ড ওয়ার্ডে।

হাওড়ার বাসিন্দা মেদিনীপুরে এসে ভর্তি হলেন কী ভাবে? সূত্রের খবর, আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালের ইন্টার্ন। ওই ইন্টার্নের এক পরিচিত আবার মেডিক্যালের পিজিটি। ওই ইন্টার্ন ওই পিজিটি-কে তাঁর বাবার অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। পিজিটি তাঁকে অভয় দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, মেদিনীপুরে নিয়ে চলে আসতে। ভর্তিতে সম্মতি ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও। মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন মানছেন, ‘‘আক্রান্ত ব্যক্তির মেয়ে এখানকার ইন্টার্ন। উনি বাবাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছিলেন।’’

বুধবার দুপুরে মেল মেডিসিন কোল্ড ওয়ার্ডটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ভর্তি থাকা অন্য দু’জন রোগীকে মেদিনীপুরের লেভেল- ২ করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই দু’জনের করোনা পরীক্ষা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় ২৭ জনকে হোম কোয়রান্টিন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জন ডাক্তার, ১৫ জন নার্স এবং ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী। হোম কোয়রান্টিনে যাওয়া বেশ কয়েকজনের করোনা পরীক্ষা হবে।

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy