Advertisement
E-Paper

করোনার উপসর্গে জোড়া মৃত্যু

জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। করোনার প্রাথমিক উপসর্গ থাকায় তাঁর লালারসে নমুনা সংগ্রহ করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩২
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দুই হাসপাতাল। দু’টি মৃত্যু। দু’টি ক্ষেত্রে মিল শুধু করোনা উপসর্গে।

এক মৃতের লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ এসেছিল। অন্যজনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। করোনার প্রাথমিক উপসর্গ থাকায় তাঁর লালারসে নমুনা সংগ্রহ করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ওই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এরপর ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে সাধারণ বিভাগে রেখে চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। সন্ধ্যা নাগাদ তাঁকে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পথেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, মৃতের পরিবার মৃতদেহ গ্রামে নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। তাঁকে কাঁথির একটি শ্মশানেই দাহ করা হয়। এ প্রসঙ্গে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘মৃতের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। তাই তাকে সাধারণ বিভাগে রেখে চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার আচমকা তাঁর অবস্থা খারাপ হওয়ায় কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। রাস্তাতেই ওই যুবক মারা গিয়েছে বলে পরে জানতে পারি।’’

অন্য মৃত্যুটি হয়েছে তমলুক জেলা হাসপাতালের আইসোলেশনে। জেলা হাসপাতাল সূত্রের খবর, ভগবানপুরের ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধ জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা শুক্রবার রাত ১১ টা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। করোনার উপসর্গ থাকায় তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। শনিবার সকালে তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট আসার আগেই এ দিন দুপুর আড়াইটা নাগাদ ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু’র নির্দেশিকা মেনে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ডাবল কভার প্যাকেটে মুড়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার গোপাল দাস বলেন, ‘‘নিয়ম মেনে ওই রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলছি। এ দিন নমুনা পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছিল। দুপুরে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ায়া এবং পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে মৃতদেহ সৎকারের জন্য পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে।’’

গত ১৫ এপ্রিল থেকে এ দিনের বৃদ্ধের ঘটনা ধরে তমলুক জেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগেও আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা এক বৃদ্ধার লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগে মৃত্যু হয়েছিল। ওই মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট সামায়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে বৃদ্ধার করোনা নেগেটিভ আসায় স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু বারবার আইসোলেশনে মৃত্যুর ঘটনায় জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy