Advertisement
E-Paper

জীর্ণ রাস্তা ভরেছে খন্দে, চলাই দায়

পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে একটি ছোট্ট ব্লক। অথচ সেখানেও নজর নেই প্রশাসনের। সর্বত্রই বেহাল রাস্তা। নাকাল বাসিন্দারা। পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রান্তিক ব্লক মোহনপুরে এমনই অবস্থা। পূর্ত দফতরের পিচের রাস্তা বা মোরাম রাস্তা একই অবস্থা সর্বত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৬ ২৩:৫৭
কুসুমদা-বৈতা রাস্তার হাল এমনই। — নিজস্ব চিত্র।

কুসুমদা-বৈতা রাস্তার হাল এমনই। — নিজস্ব চিত্র।

পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে একটি ছোট্ট ব্লক। অথচ সেখানেও নজর নেই প্রশাসনের। সর্বত্রই বেহাল রাস্তা। নাকাল বাসিন্দারা। পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রান্তিক ব্লক মোহনপুরে এমনই অবস্থা। পূর্ত দফতরের পিচের রাস্তা বা মোরাম রাস্তা একই অবস্থা সর্বত্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন সংস্কারের অভাবে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে রাস্তা। মোরাম রাস্তাগুলিও অবস্থা আরও বিপজ্জনক। বাসিন্দাদের দাবি, ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করেন তাঁরা। বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তবে কিছু কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন,

এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, পুরুন্দা যাওয়ার রাস্তা সদ্য সংস্কার হয়েছে। তার আগে দীর্ঘদিন বেহাল ছিল এই রাস্তা। তবে সংস্কারের ছোঁয়া পায়নি অধিকাংশ রাস্তাই। ফলে দুর্ভোগ বাড়ছে বাসিন্দাদের। এই এলাকার সব থেকে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সোলপাট্টা-এগরা সড়কটির হাল খারাপ। ২৫কিলোমিটার এই রাস্তাটির পূর্ব মেদিনীপুরের অংশটির অবস্থা ভাল। কিন্তু মোহনপুর ব্লকের আওতায় থাকা ১০কিলোমিটারের অবস্থা খুব খারাপ। পূর্ব মেদিনীপুরের সীমানাবর্তী গ্রাম ঝাটিয়া থেকে বৈতা, মোহনপুর, নয়াগ্রাম, বড়াই, গোমুন্ডা পর্যন্ত একেবারে বেহাল দশা। বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে মাস খানেক আগে সাময়িকভাবে মেরামতির কাজে নেমেছে প্রশাসন। কিন্তু লাভ হয়নি। বর্ষায় ফের নষ্ট হয়েছে সেই রাস্তা। অথচ কলকাতা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর হয়ে ভুবনেশ্বর, পুরী যাওয়ার সহজ পথ এই এগরা সোলপাট্টা সড়ক। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক মাইতির কথায়, “মোটর বাইক, চারচাকা গাড়ি খানাখন্দ এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছে। বৈতা-গোমুন্ডা সড়ক সাময়িক মেরামত হলেও ফের বেহাল হয়ে গিয়েছে। অবিলম্বে এই সড়কের পূর্ণ সংস্কার চাই।”

এগরা-সোলপাট্টা মূল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য রাস্তাগুলিরও বেহাল দশা। বড়াই থেকে সগরা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তাটি দীর্ঘদিন খারাপ। নীলদা পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের মূল ভরসা এই পথটি, ফলে ক্ষোভ বাড়ছে। যদিও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক আগেই এই রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। অভিযোগ, সে সময় ঠিকাদার সংস্থার গাফিলতিতেই সমস্যা। অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তায় মোরাম উঠে গিয়েছে। নতুন করে মোরাম ফেলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

বৈতা এলাকায় এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। বৈতা বাজার থেকে কুসুমদা পূর্ব ও কুসুমদা পশ্চিমে যাওয়ার দু’টি রাস্তাই বেহাল। উঁচু-নিচু রাস্তায় পেরিয়ে যেতে পারেন না সাইকেল, মোটর মোটর বাইক আরোহীরা। ‘‘পায়ে হেঁটে ওই রাস্তা পেরোনও কষ্ট’’, বলেন স্থানীয় বধূ সীমা বিশ্বাস। আর সামান্য বৃষ্টি হলেই গোটা রাস্তায় এমন কাদায় ভরে যায় কুসুমদা পূর্বের রাস্তাটি। বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক মাস আগে বৈতার দেশপুকুর সংস্কারের সময়ে এই রাস্তা দিয়েই ভারী যানবাহনে মাটি নিয়ে যাওয়া হত। তাতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। স্থানীয় নয়ন দোলুই বলেন, “প্রায় দেড় হাজার লোকের একমাত্র ভরসা এই দুই সড়ক। অথচ পঞ্চায়েতের হুঁশ নেই। বছর তিনেক ধরে মোরাম ফেলা হয়নি। আমরা দ্রুত ব্লকের সমস্ত সড়কের সঙ্গে এই রাস্তা দু’টির সংস্কার চাইছি।”

মোহনপুরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রদীপ পাত্র অবশ্য বলেন, “আমাদের পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ সড়ক মেরামতে উদ্যোগী হয়েছে। বৈতা-গোমুন্ডা সড়কটি সংস্কারে ২০কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হচ্ছে। অন্য রাস্তাগুলিও সংস্কার হবে।” পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌরকৃষ্ণ দে-র সাফাই, “এ বার বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায় কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তা বেহাল। তবে অনেক রাস্তায় কাজ হয়েছে। গোমুন্ডা-বৈতা রাস্তায় খুব শীঘ্র সংস্কার হবে। বড়াই-সগরা রাস্তা যাতে মেরামত করা যায় সেটি দেখছি।’’

dilapidated road
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy