E-Paper

ছাত্রীদের উপরে হামলা রোগীর, প্রশ্নে নিরাপত্তা

আর জি কর কাণ্ডের পরে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ঢেলে সাজার কথা বলা হয়েছিল। তার পরেও এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ওয়ার্ডের ভিতর ও বাইরের চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা ফের প্রশ্নে। বৃহস্পতিবার রাত ১টা নাগাদ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের নিউ গার্লস হস্টেলের সামনে তিন আবাসিক ছাত্রীর উপরে এক জন লাঠি হাতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ছাত্রীরা হস্টেলে ঢুকলে, হস্টেলের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মহিলা পুলিশকর্মীকে তাড়া করে অভিযুক্ত। হস্টেলের ভিতরে ঢোকারও চেষ্টা করে বলে দাবি। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকান। শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানা যায়, লোকটি হাসপাতালেরই রোগী। মানসিক সমস্যা এবং নেশার আসক্তিজনিত অসুস্থতা থাকায় তাকে ভর্তি করান বাড়ির লোক। ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে সে এই ধুন্ধুমার বাধিয়েছে।

আর জি কর কাণ্ডের পরে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ঢেলে সাজার কথা বলা হয়েছিল। তার পরেও এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ওয়ার্ডের ভিতর ও বাইরের চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডাক্তারি-পড়ুয়াদের একাংশ শুক্রবার সে ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তথা সুপার সঞ্জয় মল্লিকের দ্বারস্থ হয়েছেন। হস্টেলের দায়িত্বে থাকা ডিন (স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স) অনুপমনাথ গুপ্তের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠন ডিএসও।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, বছর পঁয়তাল্লিশের ওই রোগীর বাড়ি গাড়িধুরায়। এমএম-১ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে রাতভর ফাঁড়িতে আটকে রাখে। এ দিন ভোরে পরিচয় জানার পরে, পুলিশ বাড়ির লোককে ডাকে। তাঁরা অন্যত্র নিয়ে চিকিৎসা করাবেন জানালে, ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) রাকেশ সিংহ বলেন, “ওয়ার্ড থেকে পালিয়েছিলেন ওই রোগী। তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”

হাসপাতালে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও কী ভাবে রাতে রোগী ওয়ার্ড থেকে পালালেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে। মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া, নার্স, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেমন, যে এক রোগী এই কাণ্ড ঘটাল? এটা তো বহিরাগতও ঘটাতে পারত!” ডিনের কাছে করা লিখিত অভিযোগে সেই প্রশ্ন তুলেছে ডিএসও। ডিন বলেন, “পড়ুয়াদের উপরে হামলার ব্যাপারটা অধ্যক্ষকে জানিয়েছি।” ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, “ছাত্রীরা অত রাতে কেন বাইরে ছিলেন, তা আমাকে জানাননি। পুলিশ লোকটিকে আটক করে। পরে জানা যায়, সে মানসিক ভাবে অসুস্থ। ওয়ার্ড থেকে পালিয়েছে। নিরাপত্তার দিকটি নিয়ে পুলিশকে জানিয়েছি। ওয়ার্ডের নিরাপত্তাও দেখা হচ্ছে।”

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের রোগীকল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য গৌতম দেব বলেন, “হাসপাতালের নিরাপত্তায় অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর কী দরকার, তা দেখা হবে।” যে এলাকায় মেডিক্যাল কলেজ, সেই মাটিগাড়ার বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ বলেন, “আর জি কর কাণ্ডের পরেও এমন ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে, বড় অঘটন ঘটতে পারে মেডিক্যাল কলেজে। কলেজ চত্বরে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। রাতে সেখানে যাতে যথাযথ পুলিশি ব্যবস্থা থাকে, তা দেখা দরকার। ওয়ার্ডের নিরাপত্তাতেও নজর দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Insecurity Government Medical Colleges

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy