E-Paper

ভোট আশ্বাসে ভরসা নেই স্বজনহারাদের

বিধানসভা ভোটের প্রচারে অগ্নিকাণ্ডে প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলিতে দেখা করতে যাচ্ছেন বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির প্রার্থী এবং নেতা-কর্মীরা।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১০
নাজিরাবাদের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।

নাজিরাবাদের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ফাইল চিত্র।

ক্রমশ বিস্মৃতিতে চলে যাচ্ছিল নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদের গুদামে অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনা। এখনও ওই ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের নিখোঁজ ৬ জনের দেহ শনাক্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ এখনও প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। ভোটের আবহে ফের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কথা সামনে উঠে এসেছে। কারণ, প্রচারের তাগিদে তাদের কথা মনে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলির।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে অগ্নিকাণ্ডে প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলিতে দেখা করতে যাচ্ছেন বিদায়ী শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির প্রার্থী এবং নেতা-কর্মীরা। যুযুধান শিবির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য সেই প্রতিশ্রুতিতে পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যেরা।

গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নাজিরাবাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ২১ জন ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার তিন জন শ্রমিক। তালিকায় বারুইপুর এলাকার শ্রমিকও ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ২৭ জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। নিখোঁজদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, পাঁশকুড়া, ময়না, নন্দকুমার, শহিদ মাতঙ্গিনী ও সুতাহাটা ব্লকের শ্রমিকেরা ছিলেন। ওই ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার পরে ১৮ জনের দেহাংশ শনাক্ত হয়ে। ১৬ জনের পরিবারের হাতে দেহাংশ তুলে দেওয়া হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে তমলুকের নীলকুণ্ঠা গ্রামের যুবক বিমল মাইতির। ফুলের সাজসজ্জার কাজ করতেন বিমল। তাঁর জ্যাঠামশাই গণেশ মাইতি বলেন,"ডিএনএ পরীক্ষায় মৃতদেহ শনাক্ত হয়েছিল। ভাইপোর স্ত্রী-র চাকরির জন্য পুলিশের তরফে নথি যাচাইও করা হয়। কিন্তু এখনও চাকরি মেলেনি । প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিধানসভা ভোট ঘোষণা হওয়ায় আপাতত এই প্রক্রিয়া বন্ধ।’’

তিনি আরও বলেন, "ময়নার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা আমাদের বাড়ি এসেছিলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আর কয়েকদিন আগে তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল ভোট প্রচারের মাঝে বাড়িতে এসেছিলেন। তাঁরাও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’’

অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে তমলুক ব্লকের নিজ্জত গাড়ুপোতা গ্রামের ক্ষুদিরাম দিন্দার। তাঁর বড় ছেলে নারায়ণের কথায়,"এখনও মৃত্যুর শংসাপত্র মেলেনি। ভাইয়ের চাকরির জন্য পুলিশের তরফে নথিপত্র নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও চাকরি হয়নি। ভোটের প্রচারে বাড়িতে তৃণমূল ও বিজেপি, দু’ দলের লোকজনই এসেছিলেন এবং আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কবে ঘটনার বিচার পাব জানি না।’’ অগ্নিকাণ্ডে মৃত গড়চক গ্রামের গোবিন্দ মণ্ডলের মৃতদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। তাঁর দাদা নিরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রশাসনের তরফে কিছুই জানানো হচ্ছে না।’’

ময়না বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল বলেন,"নাজিরাবাদের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কথা হয়েছে। আমরা তাঁদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছি।’’ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বামদেব গুছাইতের মন্তব্য, ‘‘আমাদের বিদায়ী বিধায়ক অশোক দিন্দা ওই সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের স্থানীয় নেতৃত্ব যোগাযোগ রাখছেন।’’ পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘‘বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Tamluk

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy