×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

আক্রান্ত চিকিৎসক, প্রসূতি ভর্তিতে রাশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
ঘাটাল ২৫ জুলাই ২০২০ ০০:১৬
ফিরে যাচ্ছেন প্রসূতি। নিজস্ব চিত্র।

ফিরে যাচ্ছেন প্রসূতি। নিজস্ব চিত্র।

প্রসূতি বিভাগের এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে রোগী ভর্তিতে রাশ টানল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।‌ আপাতত সেখানে শুধু জরুরি রোগীদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে ওই সিদ্ধান্ত। ফলে শুক্রবার ভর্তি হতে এসে ফিরে যান অনেকে।
ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার দুর্গাপদ রাউত বলেন, “হাসপাতালের এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অপারেশন থিয়েটার-সহ বিভিন্ন বিভাগ জীবাণুমুক্ত করার কাজ চলছে। আপাতত প্রসূতি মহিলাদের শুধু জরুরি প্রয়োজনেই ভর্তি নেওয়া হবে। জরুরি ক্ষেত্রে সিজারও হবে। তবে যাঁদের দু’চারদিনের মধ্যে ভর্তি না হলেও সমস্যা হবে না, তাঁদের কয়েকদিন পরে আসতে বলা হচ্ছে।”
ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল সূত্রের খবর, বুধবার হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের ওই চিকিৎসকের করোনা পজ়িটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি আপাতত বাড়িতেই আছেন। এর আগে ওই হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগের এক নার্সও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কোনও চিকিৎসক আক্রান্ত হলেন এই প্রথম। রিপোর্ট আসার পরেই প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মীদের লালারস নেওয়া শুরু হয়েছে।
হাসপাতালের এক সূত্রের খবর, ঘাটাল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এমনিতেই চাপ বেশি থাকে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০০ জন প্রসূতি ভর্তি হন সেখানে। করোনা পরিস্থিতিতেও দিনে গড়ে ২০-২২ জন করে প্রসূতি ভর্তি হতেন। মহকুমার পাঁচটি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকেও বহু প্রসূতিকে ‘রেফার’ করা হয় ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটিতে। তাই সেখানে ভর্তি নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। শুক্রবার সকালে সেখানে ভর্তি হতে এসেছিলেন দাসপুরের রানিচকের সুমনা মণ্ডল। তিনি বলেন, “এদিন আমার ভর্তির দিন ছিল। তাই এসেছিলাম। হাসপাতাল থেকে এক সপ্তাহ পরে আসতে বলল।” নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটালের আরেক প্রসূতির ক্ষোভ, “ভর্তির ব্যাপারে জোরাজুরি করলে মেদিনীপুর মেডিক্যালে রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। এখন গাড়ির সমস্যা। মেদিনীপুরে যাব কীভাবে!’’
সমস্যার কথা স্বীকার করে ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “প্রসূতি বিভাগ খোলা রয়েছে। তবে শুধু জরুরি রোগীদের ভর্তি করে নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যা হবে। করোনা পরিস্থিতিতে এইটুকু তো মানিয়ে নিতেই হবে।”

Advertisement
Advertisement