Advertisement
E-Paper

হাসপাতালে রোগী টানতে পুস্তিকা বিলি

‘সরকারি হাসপাতালে আসুন। সিটি স্ক্যান, ডিজিট্যাল এক্স রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, এন্ডোস্কোপির মতো নানা মহার্ঘ্য পরিষেবা মিলবে একেবারে বিনামূল্যে।’— বাড়ি বাড়ি পুস্তিকা বিলি করে এমন প্রচারই করতে চলেছে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিংশুক গুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০১৭ ০২:১৮

‘সরকারি হাসপাতালে আসুন। সিটি স্ক্যান, ডিজিট্যাল এক্স রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, এন্ডোস্কোপির মতো নানা মহার্ঘ্য পরিষেবা মিলবে একেবারে বিনামূল্যে।’— বাড়ি বাড়ি পুস্তিকা বিলি করে এমন প্রচারই করতে চলেছে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঝাঁ চকচকে ছাপানো সেই পুস্তিকা পৌঁছে দেওয়া যাবে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত অফিস ও সরকারি দফতরে। প্রত্যন্ত গ্রামে গঞ্জে আশা কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন। সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সরকরি হাসপাতালমুখী করে তুলতে সম্প্রতি এমনি সিদ্ধান্ত হয়েছে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির এক বৈঠকে।

ঝাড়গ্রাম মহকুমার পাশাপাশি, লাগোয়া বাঁকুড়া এবং ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার বহু মানুষ ভরসা ঝাড়গ্রামের এই সরকারি হাসপাতাল। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একাংশ বাসিন্দাও সরকারি হাসপাতালের তুলনায় নার্সিংহোম ও বেসরকারি নির্ণয় কেন্দ্রের উপর বেশি নির্ভর করেন। সে জন্য মোটা টাকাও গুনতে হয় তাঁদের।

Advertisement

গত ডিসেম্বর থেকে সরকারি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান, ডিজিট্যাল এক্স রে, আলট্রাসনোগ্রাফি, এন্ডোস্কোপি, ডায়ালিসিস-এর মতো বিভিন্ন পরিষেবা নিখরচায় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরাই বলছেন, প্রচারের অভাবে বিষয়টা অনেকেই জানেন না। অত্যাধুনিক সি-আর্ম যন্ত্রের সাহায্যে হাড়ের জটিল অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে সুপার স্পেশ্যালিটিতে। অঙ্গ বিকৃত হয়ে যাওয়া কুষ্ঠরোগীদের পুনর্গঠন অস্ত্রোপচারও করা হচ্ছে। কিন্তু দালাল চক্রের পাল্লায় পড়ে গরিব মানুষ পরিকাঠামোহীন বেসরকারি নার্সিংহোম এবং নির্ণয়কেন্দ্রগুলির দিকে যাচ্ছেন।

সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি নার্সিংহোম ও নির্ণয়কেন্দ্রে ভাল চিকিৎসা পরিষেবা মেলে— এই ধারণাটাই ভাঙতে চান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঝাড়গ্রাম জেলা ও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের সুপার মলয় আদক বলেন, ‘‘পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা সত্ত্বেও আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় নতুন নতুন বিভাগগুলিতে নিয়মিত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের এই সাফল্য এবং উত্তরণের কাহিনী আমরা সর্বসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছি।’’ তিনিই জানালেন, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে এসএনসিইউ-তে এক নম্বরে উঠে এসেছে ঝাড়গ্রাম। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল হিসেবেও প্রশংসিত হয়েছে। মলয়বাবুর পরিকল্পনায় পুস্তিকার বিষয়বস্তু লেখার কাজ চলছে। উপদেষ্টা মণ্ডলীতে রয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা এবং কার্যকরী সভাপতি তথা ঝাড়গ্রামের মহকুমাশাসক নকুলচন্দ্র মাহাতো।

বাংলায় লেখা পুস্তিকায় ছাপা থাকবে কী ভাবে সেই পরিষেবা পাওয়া যাবে। চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রত্যেকের নাম ও কী বার রোগী দেখেন। প্রতিটি বিভাগে যাওয়ার পথ নির্দেশের। আউটডোরের সময়। কত নম্বর ঘরে কোন পরিষেবা মেলে। প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর। অভিযোগ জানানোর নম্বর। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরিষেবা নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে থাকবে আবেদন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শাসকদলের প্রভাবিত সংগঠন প্রোগেসিভ ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠেনের ঝাড়গ্রাম শাখার সম্পাদক প্রসূন ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চান, জঙ্গলমহলের আমজনতা বেশি করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা গ্রহণ করুন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগের ফলে, সেই বিষয়টি পূর্ণতা পাবে।” চিকিৎসকদের একাংশের অবশ্য বলছেন, পরিষেবা বাড়ছে, প্রচার বাড়ছে কিন্তু কর্মী বাড়ছে কই। তাঁরা বার বারই বলেছেন, কর্মীরা অভাবে মার খাবে পরিষেবা। ফলে প্রচারের আগে প্রস্তুতি
রাখা প্রয়োজন।

Hand Bill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy