‘জয় হবে নিশ্চয়...।’
করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। মোকাবিলায় ব্যস্ত জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। তাঁকেও করোনা হাসপাতালগুলিতে পরিদর্শনে যেতে হচ্ছে। কী পরিকাঠামো রয়েছে, আর কী দরকার, সে সব দেখতে হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে রোগী এবং রোগীর পরিজনেদের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। এ সব নানা কাজের ফাঁকেই করোনা সচেতনতায় গান বেঁধে ফেললেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। ইতিমধ্যে গানটি রেকর্ডিং হয়েছে। নিজের গলায় গান রেকর্ড করেছেন সৌম্যশঙ্কর। তিনি যে শুধু গানটি গেয়েছেন তা নয়, গানের কথাগুলি তাঁরই লেখা। জেলায় করোনা সচেতনতার কর্মসূচিগুলিতে এই গান শোনা যাবে।
মিউজিক সিডিটি প্রকাশ হবে জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সমিতির তরফেই। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘খুব ভাল উদ্যোগ।’’ গান তৈরির পরিকল্পনা সপ্তাহ দুয়েক আগের। সৌম্যশঙ্কর বলছিলেন, ‘‘করোনা নিয়ে সচেতনতা প্রচারের জন্যই গান তৈরি করেছি।’’ ‘করোনাকে আর ভয় নয়, জয় হবে নিশ্চয়...’- স্পষ্ট বার্তা রয়েছে গানে। পাশাপাশি রয়েছে করোনা নিয়ে আরও বেশ কিছু বার্তাও। গানের মাঝে মাঝে বার্তা পাঠ। এ ভাবেই তৈরি হয়েছে সিডিটি। বোঝানো হয়েছে, সচেতনতাই পারে রোগ সংক্রমণকে প্রতিহত করতে। প্রতিরোধই রোগ নিরাময়ের শ্রেষ্ঠ উপায়। করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে তোলার থেকে, করোনার সংক্রমণকে রুখে দেওয়া অনেক সহজ।
রেকর্ডিং হয়েছে মেদিনীপুরের এক স্টুডিয়োতেই। এই মিউজিক সিডি প্রকাশের সমগ্র ভাবনা, রচনা এবং পরিচালনা সৌম্যশঙ্করের। গ্রন্থনায় রয়েছেন দু’জন। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অনন্যা মজুমদার এবং কবি নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়। সুর ও যন্ত্রানুসঙ্গ কিংশুক রায়ের। গানে ও কোরাসে সৌম্যশঙ্করের সঙ্গে রয়েছেন স্বাগত মাইতি। স্বাগতও স্বাস্থ্যকর্মী। এর আগে ডেঙ্গি সচেতনতায় গান বেঁধেছিলেন জেলার এই স্বাস্থ্য আধিকারিক।কিছুক্ষণ অন্তর বারবার হাত ধুতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বা পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, করোনার সংক্রমণ এড়াতে এর কোনও বিকল্প হয় না- স্পষ্ট বার্তা রয়েছে সিডিতে। করোনায় আক্রান্ত মানে মৃত্যু নয়, সাধারণত আশি থেকে নব্বই শতাংশ মানুষের কোনও উপসর্গই থাকে না, থাকলেও সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি থাকে, যা নিজে থেকেই সাত থেকে দশ দিনে সেরে যায়। যাঁরা মারা যান, তাঁদের সাধারণত অন্য অসুখ থাকে বা বয়স সাধারণ ষাটের বেশি হয়। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই করোনা সংক্রমিত হলে ভয় পাবেন না। গুজবে কান দেবেন না। বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার সুবিধা না থাকলে সরকার পরিচালিত সেফ- হোমে ভর্তি হন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলুন- এ সব বার্তাও রয়েছে। সৌম্যশঙ্করকে গাইতে শোনা গিয়েছে, ‘আবার নতুন করে বাঁচবো মোরা, চলো জীবন ছন্দে ফেরাই...। জয় হবে নিশ্চয়...।’
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘করোনা নিয়ে সচেতন করতেই এই মিউজিক সিডি-র পরিকল্পনা। ভাবনা সৌম্যশঙ্করেরই। আশা করছি, এই গানের মাধ্যমেও মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হবে।’’