E-Paper

হুগলি নদীর মাটি চুরি, অজানা প্রশাসনের

হুগলি নদীর পাড় ঘেঁষে সুতাহাটা ব্লকের এড়িয়াখালি গ্রাম। ওই অংশে হুগলি নদীর বাঁধ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৫
এ ভাবেই কাটা হচ্ছে মাটি।

এ ভাবেই কাটা হচ্ছে মাটি। নিজস্ব চিত্র।

নদীর বুকে নেমে গিয়েছে বিশাল যন্ত্রগুলো। দেদার মাটি কেটে চলেছে তারা। সেই মাটি যাচ্ছে কাছের ইটভাটাগুলোয়। দিনেদুপুরে নদীর বুক থেকে মাটি চুরি নিয়ে বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে দাবি করছে। বিরোধীদের দাবি, মাটি চুরিতে শাসকদল জড়িত।

হুগলি নদীর পাড় ঘেঁষে সুতাহাটা ব্লকের এড়িয়াখালি গ্রাম। ওই অংশে হুগলি নদীর বাঁধ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানেই যন্ত্র দিয়ে নদীগর্ভ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। অন্তত চার-পাঁচটি যন্ত্র বসানো হয়েছে। স্থানীয়েরা বলেন, ‘‘নদীগর্ভে নেমে দু’টো মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে সেই মাটি ফেলা হচ্ছে নদীর ধারে। তার পর আবার পরপর দু’টো যন্ত্র রয়েছে। সেগুলো মাটি ভেতরের দিকে ভাটাতে নিয়ে রেখে দিচ্ছে।’’

অভিযোগ, ওই এলাকায় সরকারি বাঁধ পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এড়িয়াখালি এলাকায় অন্ততপক্ষে ১৫টি ইটভাটা রয়েছে। ওইসব ভাটায় ইট তৈরি করার জন্য হুগলি নদী থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে যেখান মাটি কাটা হচ্ছে তার ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ভাটাগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি কাটার সঙ্গে ভাটা মালিকেরা জড়িত।

নদী গর্ভ থেকে মাটি কাটার জন্য কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। এতে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। আভার নদী বাঁধ ধসে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের।

প্রতি বছর বর্ষাকালে এড়িয়াখালি এলাকায় হুগলি নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। বাঁধের একাংশ ভেঙে তলিয়ে যায় নদীগর্ভে। স্থানীয়রাই জানাচ্ছেন, গত আড়াই দশকে অন্তত ৫০ বিঘার বেশি চাষের জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। ২০২৩ সালে সেখানে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তবু, মাঝে মধ্যে সেই বাঁধে ফাটল দেখা যায়। এ বিষয়ে সুতাহাটার বিডিও সৌমিত্র মুদলী বলেন, ‘‘ভূমি দফতরের এক্তিয়ারে পড়ে। তা ছাড়া এ রকম ঘটনা আমাদের অজানা।’’

বিরোধীদের অভিযোগ, গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে। বিজেপি তমলুক সংগঠনিক জেলার অন্যতম সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, ‘‘তৃণমূল নেতারা সরাসরি মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত। তাই সব কিছু জেনেও নীরব প্রশাসন।’’

যদিও এ বিষয়ে হলদিয়ার তৃণমূল বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, ‘‘এ রকম ঘটনা আমাদেরও কানে এসেছে। এর সঙ্গে দলের কেউ যুক্ত নয়। প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে বলব।’’ বিষয়টি জানার পর পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনুস রিশিন ইসমাইল বলেন, ‘‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sutahata Haldia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy