চিকিত্সক, নার্স, কর্মী সঙ্কট রয়েছে। আছে পরিকাঠামোর সমস্যাও। সে সব সামলেই ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যলিটি হাসপাতাল যে ভাবে পরিষেবা দিচ্ছে, তা দৃষ্টান্তযোগ্য। জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্রের এই হাসপাতালটিকে তাই ‘মডেল’ করতে চায় স্বাস্থ্য দফতর। সেই মতো অন্য জেলার হাসপাতালগুলিকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল পরিদর্শনের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
সেই পরামর্শ মেনেই শুক্রবার হাওড়ার মেয়রের পাঠানো এক প্রতিনিধি দল ঝাড়গ্রামের এই হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। জানা গিয়েছে, হাওড়া পুর-নিগম কর্তৃপক্ষ ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটিকে মডেল করে নিজেদের এলাকায় একটি হাসপাতাল তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে। হাওড়ার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) ভাস্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এ দিন সকালে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে প্রায় তিন ঘণ্টা নানা বিভাগে ঘুরে দেখেন তাঁরা। পরে ভাস্করবাবু বলেন, ‘‘বালিতে আধুনিক হাসপাতাল গড়ছি।’’
সম্প্রতি রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ঝাড়গ্রাম হাসপাতাল ঘুরে গিয়েছেন। রামকৃষ্ণ মিশনের আইন ও গণমাধ্যমের বিভাগীয় প্রধান স্বামী শুভকরানন্দও বার কয়েক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল দেখে তাঁরা খুশি হন। এই খবর পৌঁছয় নবান্নের শীর্ষস্তরে।
ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালটি সুপার স্পেশ্যালিটিতে উন্নীত হওয়ায় শয্যা সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪২৪টি। অথচ চিকিত্সক মাত্র ৫২জন। কার্ডিওলজিস্ট-সহ বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদ শূন্য। নার্স আছেন ১২৩ জন। ৫০টি নার্সের পদ শূন্য। স্বাস্থ্য কর্মীতেও ঘাটতি। থাকার কথা ১২৪ জন, আছেন ৩০ জন। এই সব খামতি নিয়েই হাসপাতালের এসএনসিইউ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে প্রথম হয়েছে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে সব থেকে পরিচ্ছন্ন হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। ডিজিট্যাল এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, আলট্রা সোনোগ্রাফি, এন্ডোস্কোপি, ডায়ালিসিসের মতো পরিষেবা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। সি-আর্ম যন্ত্রের সাহায্যে হাড়ের জটিল অস্ত্রোপচার থেকে কুষ্ঠরোগীদের শারীরিক পুনর্গঠন অস্ত্রোপচারও হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম হাসপাতালের সুপার মলয় আদক বলেন, “সমস্যা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রেই আমরা বিশ্বাসী।”