Advertisement
E-Paper

বাকচার পরে মহম্মদপুর, সংগঠন সামলাতে পরামর্শ বৈঠকে ‘বিপাকে’ বিজেপি

মঙ্গলবার রাতে মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের পশ্চিমবাড় গ্রামে বিজেপি কর্মী নিতাই প্রামাণিক ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে পিন্টুর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ ০৪:০৩
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথে প্রায় দেড় বছর ধরে উত্তপ্ত ময়নার বাকচা। যার জেরে বাকচায় রাজনৈতিক আধিপত্য বাড়ছিল বিজেপির। কিন্তু বাকচার তৃণমূল নেতা বসুদেব মণ্ডল খুনে নাম জড়ায় বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি সহ ২০ জন নেতা-কর্মীর।

গত অক্টোবর মাসে ওই ঘটনার পর বিজেপির ৬ জন কর্মীকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও পলাতক বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে হুলিয়া জারি হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের এ ভাবে নাগাড়ে গ্রেফতার করায় সংগঠনে তার প্রভাব পড়ে। পাছে পুলিশি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে হয় সেই আশঙ্কায় দলের কর্মসূচিতেও ভাটা পড়ে। আর তারই সুযোগ নেয় শাসক দল। বিজেপির নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাকচায় ফের সক্রিয় ভূমিকায় ফিরেছে তৃণমূল। দাপট বেড়েছে নেতা-কর্মীদের। তৃণমূল-বিজেপির গোলামালের জেরে প্রায় দেড় বছর ধরে অচলাবস্থা চলতে থাকা পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ফের শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাকচায় কিছুটা বেকায়দায় বিজেপি জেলা নেতৃত্ব।

একই পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে ভগবানপুর-১ ব্লকে মহম্মদপুরেও। এখানেই জোর করে চাষের জমিতে ভেড়ি তৈরি এলাকাবাসীর প্রতিবাদের জেরে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে খুন হন তৃণমূল নেতা নান্টু প্রধান। বাকচার উল্টোদিকে কেলেঘাই নীদর অপর পারে নান্টুহীন মহম্মদপুরে ক্রমশ প্রভাব বাড়াতে থাকে বিজেপি। ফলে মাঝেমধ্যেই এলাকা কার ‘দখলে’ থাকবে তা নিয়ে চলতে থাকে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ। দু’পক্ষের এই গোলমালে জড়িত হিসাবে নাম উঠে আসে নান্টুর ভাই পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ পিন্টু প্রধানের। মঙ্গলবার রাতে মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের পশ্চিমবাড় গ্রামে বিজেপি কর্মী নিতাই প্রামাণিক ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে পিন্টুর। সেই সঙ্গে পুলিশকে মারধরের অভিযোগও তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

বিজেপির এক নেতার অভিযোগ, সম্প্রতি পশ্চিমবাড় গ্রামের বিশ্বজিৎ বাগ নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে দলের ২১ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। এভাবেই বিভিন্ন অভিযোগে দলের প্রায় ৬০০-৭০০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বাকচার মতোই এখানেও ইচ্ছা করে গোলমাল পাকিয়ে পুলিশের সাহায্যে মিথ্যা মামলায় বিজেপির নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে জেলে পুরে এলাকার দখল পেতে চাইছে পিন্টু ও তার দলবল তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এমন পরিস্থিতিতে ভগবানপুর-১ ব্লক পূর্ব মণ্ডল সভাপতি সহ কয়েকজন স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার তমলুকে বৈঠক করেন জেলা (তমলুক) সভাপতি নবারুণ নায়েক।

দলীয় সূত্রে খবর, মহম্মদপুর এলাকায় পিন্টুর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীদের উপরে একের পর এক আক্রমণে দলের কর্মী-সমর্থকরা অনেকেই তটস্থ। একদিকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয়, অন্যদিকে তৃণমূলের হামলা আক্রমণ—দুইয়ের জাঁতাকলে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অনেকেই প্রকাশ্য কর্মসূচিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ফেরাতে জেলা নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। নবারুণের অভিযোগ, ‘‘মহম্মদপুর-সহ ভগবানপুরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে পুলিশ। এক-একটি মামলায় ২০-২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।’’

বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘বাকচায় অনৈতিক উপায়ে ও গোলমাল পাকিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ভগবানপুরেও একই চেষ্টা করছে ওরা। ওখানে বিজেপির লোকজন নেই। বিজেপির নামে কিছু লোক গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy