২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুতে ব্যবহৃত স্যালাইনের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও উঠেছিল। এ বার ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে শোনা গেল মেদিনীপুরের সেই ঘটনার কথা।
রবিবার বিকেলে দিনের শেষ প্রচারে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তাঁর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের মহা-জঙ্গলরাজে মা-শিশু হাসপাতালেও সুরক্ষিত নয়। আমাকে লোকজন বলেছেন, এখানে মেডিক্যাল কলেজে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ায় মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।’’ তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘বিজেপি সরকার গর্ভাবস্থায় মায়েদের ২১ হাজার টাকা সহায়তা দেবে। নিখরচায় সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকা দেবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান যোজনা লাগু হবে। মা-বোনেরা পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা নিখরচায় পাবে। জনঔষধি কেন্দ্রে ১০০ টাকার ওষুধ ২০ টাকায় অর্থাৎ, ৮০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে।’’
২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিক্যালে অস্ত্রোপচার (সিজ়ার) হওয়া পাঁচ প্রসূতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মামনি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। মারা গিয়েছিল এক সদ্যোজাতও। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল।রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির বক্তব্য ছিল, কোনও পর্যায়ে অবহেলা হয়েছে প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অনুমান, এই পরামর্শের ভিত্তিতেই মেদিনীপুর মেডিক্যালের ১৩ জন ডাক্তারকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়। যার মধ্যে সাত জন জুনিয়র ডাক্তার (পিজিটি) ছিলেন। পরে জুনিয়রদের সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়। তবে বাকি ছ’জন সিনিয়রের সাসপেনশন এখনও বহাল রয়েছে। শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও, পরে তদন্ত শুরু করেছিল সিআইডি।
ওই স্যালাইন-কাণ্ডে মেডিক্যালে রেখা সাউ নামে যে প্রসূতির সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছিল, তাঁর বাড়ি এই বেলদা থানা এলাকায়। রবিবার বিকেলে সেই বেলদায় ভোটের প্রচারে এসে বিজেপি সরকার মা-বোনেদের জন্য কী কী করবে, তা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলায় বিজেপি সরকার বোন, মেয়েদের রোজকার, পড়াশোনা, ওষুধপত্রের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে। বাংলা বিজেপি মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের কথা ঘোষণা করেছে। এই কার্ড বাংলার মেয়েদের প্রত্যেক বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে দেবে। ৭৫ লক্ষ মেয়েকে ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পে জুড়বে। যাতে বছরে এক লাখের বেশি টাকা রোজগার করতে পারে মেয়েরা। মুদ্রা যোজনায় ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেবে। যাতে মেয়েরা, বোনেরা স্বনির্ভর হয়। মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করবে। বাড়ি তৈরি করতে দেড় লক্ষ টাকা দেবে।’’
মেয়েদের সুরক্ষার প্রশ্নেও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি। সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘বিজেপি সরকারে এলে বাংলার মেয়েদের লাভ আর লাভ হবে।’’ তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যোত ঘোষের কটাক্ষ, ‘‘মোদীর গ্যারান্টি মানে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।’’ সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘বাংলায় স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় রয়েছে সাড়ে আট কোটির বেশি মানুষ। বেসরকারি হাসপাতালেও ওই প্রকল্পে বহু জটিল অস্ত্রোপচার হচ্ছে, যা খরচসাপেক্ষ।’’ নারী ক্ষমতায়নেও পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে বলে দাবি তৃণমূলের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)