কাপড়ের ছোট ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন অমিত দাস। কিন্তু ‘ট্রেড লাইসেন্স’ পাওয়ার নিয়ম অজানা অমিতবাবুর। বাড়িতে নতুন জলের সংযোগ নিতে হলে কী করতে হবে, কত টাকাই বা জমা দিতে হবে- তাও অনেকে জানেন না। পুরসভায় কোনও কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে কিনা, বাড়ির ‘মিউটেশন’ করতে হলে কী করতে হবে, এ ধরনের যে কোনও তথ্য জানতেই ছুটতে হয় পুরসভায়।
এ বার অবশ্য মাউসের এক ক্লিকেই জানা যাবে সব তথ্য। সম্প্রতি চালু হয়েছে খড়্গপুর পুরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইট। এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন হয়নি। সমস্ত তথ্যও ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। তবে www.kharagpurmunicipality.org লিখলেই খুলছে পুরসভার ওয়েবপেজ। যদিও এখনও পেজে খড়্গপুর শহর সম্পর্কে কিছু তথ্য, ছবি ও আমরুট প্রকল্পে কর্মী নিয়োগের আবেদন পত্র ছাড়াও আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যদিও পুরসভার দাবি, দিন কয়েকের মধ্যেই পুরসভা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ওয়েব পেজে আপলোড করে দেওয়া হবে।
আগেই ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর পুরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। ১৯৫৪ সালে গঠিত খড়্গপুর পুরসভার এতদিনি নিজস্ব কোনও ওয়েবসাইট ছিল না। কলকাতার একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে এই ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। পুরসভার আধিকারিকদের দাবি, ভবিষ্যতে এই ওয়েবসাইট থেকে জমির ‘মিউটেশন’, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফর্ম পাওয়া যাবে। জলের সংযোগ, পুরকর, ট্রেড লাইসেন্স-সহ যাবতীয় বিষয়ে তথ্যও ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
ইন্দার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবক অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পুরসভার ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে শুধু ওয়েবসাইট চালুতেই সবটা আটকে থাকলে চলবে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একইসঙ্গে ওয়েবসাইটে শহরের বেহাল পুর-পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকলেও ভাল হয়। সমস্যার সমাধানও যেন হয় সে দিকেও নজর রাখতে হবে।’’
এ নিয়ে খড়্গপুরের পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন, “ইন্টারনেটের যুগে সাধারণ মানুষ যাতে স্মার্ট ফোন থেকেই পুর পরিষেবার সুযোগ পেতে পারেন, সে জন্যই এই ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। ভোটের কারণে ওয়েবসাইটের কথা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।’’