ডবল্ লাইন চালু হয়নি। গিরিময়দান স্টেশনে ট্রেনে দুর্ভোগের অপেক্ষা চলছেই।
সকালবেলা কর্মস্থলে যাওয়ার তাড়া থাকে প্রায় সকলেরই। অনেক স্কুল-কলেজের প়ড়ুয়াও ট্রেনে যাতায়াত করেন। ঠাসা ভিড় থাকে। এখন গিরিময়দান থেকে খড়্গপুর একটিই লাইন চালু থাকায় হাওড়াগামী ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে সময়ে অফিসে-কলেজে পৌঁছতে না পেরে দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের।
খড়্গপুর থেকে মেদিনীপুরের দিকে যেতে প্রথমে পড়ে গিরিময়দান স্টেশন। তারপরে গোকুলপুর। ২০১৩ সালে খড়্গপুর থেকে গোকুলপুর পর্যন্ত ডবল্ লাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। গিরি ময়দান থেকে গোকুলপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় লাইনে ট্রেন চলাচলও চালু হয়ে গিয়েছে। যদিও খড়্গপুর থেকে গিরি ময়দান পর্যন্ত দ্বিতীয় লাইনে আজও চালু হয়নি ট্রেন চলাচল।
দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-মেদিনীপুর শাখার গিরি ময়দান স্টেশনে এই ভোগান্তি নিত্যদিনের। দিনে ৪৮টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে। পুরুলিয়া এক্সপ্রেসও দাঁড়ায় এই স্টেশনে। খড়্গপুর শহরের নিমপুরা, মালঞ্চ, মথুরাকাটি, সুভাষপল্লি, ভবানীপুর, গোলবাজার-সহ বহু এলাকার বাসিন্দারা এই স্টেশনের উপরেই নির্ভরশীল।
কেন নতুন ডবল্ লাইন চালু করা যাচ্ছে না?
রেল সূত্রে খবর, খড়্গপুর স্টেশন দিয়ে দিনে প্রায় ১৫৭ জোড়া যাত্রিবাহী ট্রেন চলাচল করে। এখন একাধিক কেবিন থেকে ‘রুট ইন্টারলকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে খড়্গপুরে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। স্টেশন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ‘নিউ রুট রিলে ইন্টারলকিং’ (নিউ আরআরআই) ব্যবস্থা। ফলে সব সিগন্যাল ও জংশন পয়েন্টকে একসাথে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ জন্য খড়্গপুর রেল স্টেশনের বাইরে একটি ভবনও তৈরি হচ্ছে।
রেলের দাবি, খড়্গপুর স্টেশনে নতুন ব্যবস্থা চালু হলে গিরিময়দান থেকে খড়্গপুর নতুন লাইন চালু করা হবে। খড়্গপুরের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজকুমার মঙ্গলাও বলেন, “নিউ আরআরআই ব্যবস্থার কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই ডবল্ লাইন চালু করা সম্ভব হবে।”
২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে গিরি ময়দান স্টেশনে দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়ে গিয়েছে। যদিও নতুন প্ল্যাটফর্মের টিকিট কাউন্টার দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ। ফলে নতুন প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দিলে পুরনো প্ল্যাটফর্মে টিকিট কেটে যাত্রীদের আসতে হয়। টিকিট কাটার জন্য ট্রেন ধরতে পারেন না অনেকে। খড়্গপুরের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার বলেন, “নতুন প্ল্যাটফর্মে দিনের ব্যস্ত সময়ে টিকিট বিক্রি বেশি হয়। তাই কাউন্টারে লোক থাকে। অন্য সময়ে টিকিট বিক্রি কম হয়। তাই একজন কর্মীকে সেখানে বসিয়ে রাখলে লোকসান হবে। তবে বিষয়টি ভেবে দেখব।”