Advertisement
E-Paper

মমতা-মোদী ‘সরাতে’ ছুটির রাতেই দে ছুট

রবিবার ছুটির দিন ছিল। তবে প্রস্তুতি সারা ছিল আগেই। কে কোন এলাকার ফেস্টুন, ব্যানার খুলবেন, তা জানানো হয়ে গিয়েছিল। কর্মীদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘টিম’। রবিবার বিকেলে ভোট ঘোষণা হয়। ওই রাতেই অনেক অফিস চত্বর থেকে সরকারি প্রচারমূলক সামগ্রী সরে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯ ০৫:০০
বাস থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ দেওয়া কন্যাশ্রীর প্রচার-পোস্টার। মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ডে (বাঁ দিকে)। মেদিনীপুর স্টেশনে থেকে খোলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সম্পর্কিত হোর্ডিং। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

বাস থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ দেওয়া কন্যাশ্রীর প্রচার-পোস্টার। মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ডে (বাঁ দিকে)। মেদিনীপুর স্টেশনে থেকে খোলা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সম্পর্কিত হোর্ডিং। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল

সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই। রবিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকে ভোটের দিনক্ষণ জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই জেলার শহর ও ব্লকে শুরু হয়ে যায় সরকারি প্রচার সামগ্রী সরানোর কাজ। সোমবার যে কাজ চলেছে পুরোদমে।

রবিবার ছুটির দিন ছিল। তবে প্রস্তুতি সারা ছিল আগেই। কে কোন এলাকার ফেস্টুন, ব্যানার খুলবেন, তা জানানো হয়ে গিয়েছিল। কর্মীদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘টিম’। রবিবার বিকেলে ভোট ঘোষণা হয়। ওই রাতেই অনেক অফিস চত্বর থেকে সরকারি প্রচারমূলক সামগ্রী সরে যায়। মেদিনীপুর কালেক্টরেট হল জেলা প্রশাসনের সদর দফতর। কালেক্টরেট চত্বর ছয়লাপ ছিল একের পর এক ব্যানার, ফেস্টুন, হোর্ডিংয়ে। বেশিরভাগ প্রচার সামগ্রীতেই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসিমুখের ছবি। রাতারাতি সে সব সরেছে। সোমবার সকালে কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, একটিও সরকারি প্রচারমূলক ব্যানার, হোর্ডিং নেই।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক পি মোহনগাঁধী বলেন, ‘‘আমরা টিম তৈরি করেছি। সেই টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। কমিশনের নির্দেশ মেনেই ওই সব সামগ্রী সরানো হচ্ছে।’’ ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি জানান, সরকারি অফিস চত্বর থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই সব সামগ্রী সরানোর নির্দেশ ছিল। সেই মতো সব সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। কাজ ফেলে রেখে লাভ কি!’’ তাঁর কথায়, ‘‘ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে বিপত্তির শেষ থাকবে না।’’ শুধু মেদিনীপুর নয়, ঘাটাল, খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম সব জায়গাতেই এই তৎপরতা চোখে পড়েছে। সব জায়গায় সোমবার সকালে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা। যেখানে যা সরকারি প্রচারমূলক ব্যানার, হোর্ডিং রয়েছে, সব খুলতে শুরু করেন। এ কাজে ঘাটালে দু’টি ‘টিম’ করা হয়েছে। মেদিনীপুরেও দু’টি ‘টিম’ করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। মেদিনীপুরের একটি ‘টিমে’ যেমন ৭ জন ছিলেন। এরমধ্যে ৩ জন প্রশাসনের লোক। বাকি ৪ জন পুলিশের।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩০টি এমসিসি এনফোর্সমেন্ট টিম তৈরি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর। গড়বেতা ১ এর যুগ্ম বিডিও বিশ্বনাথ ধীবর বলেন, ‘‘ব্লক অফিসে যে সব প্রচারমূলক ফ্লেক্স, ব্যানার রয়েছে তা সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।’’ গড়বেতা ২ এর বিডিও স্বপনকুমার দেবের কথায়, ‘‘রবিবার বিকেল থেকেই সরকারি ব্যানার, হোর্ডিং সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।’’ গড়বেতা ৩ এর বিডিও অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘‘সোমবার সকাল থেকে সরকারি প্রচার সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে।’’ বলেছি, ভালভাবে কাজটা করতে। না হলে পরের বার অন্যদের দায়িত্ব দেব!’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ঠিকাকর্মীরা ঠিকঠাক কাজ করেছেন কি না মঙ্গলবার দেখে নেব।’’

ভোট ঘোষণার পরে সরকারি এবং জনবহুল সমস্ত এলাকা থেকে সরকারি প্রচার সামগ্রী সরানোর ক্ষেত্রে এ বার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ভোট ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরকারি জায়গা থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রচার সরিয়ে ফেলতে হবে। ভোট ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনবহুল সব এলাকা থেকেও সরকারি প্রচার সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে।

কালেক্টরেট চত্বর থেকে মমতার ছবি থাকা হোর্ডিং যেমন সরানো হয়েছে, তেমনই মেদিনীপুর স্টেশন চত্বর থেকে মোদীর ছবি থাকা হোর্ডিংও সরেছে। নিয়মানুযায়ী, সরকারি জায়গার উপর দলীয় প্রচার করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিয়ম মেনে চলছে কি না, দেখার জন্য প্রতি ব্লকে আদর্শ নির্বাচনবিধি সেল (এমসিসি) তৈরি করা হয়েছে। ওই সেলের কর্মীরা এলাকায় ঘুরতে শুরু করেছেন। সরকারি জায়গায় ভোটের প্রচার দেখলেই ক্যামেরাবন্দি রাখবেন তাঁরা।

Lok Sabha Election 2019 Election Commission of India লোকসভা ভোট ২০১৯ Hoarding
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy