বিধানসভা ভোটের আগে জঙ্গলমহল নিয়ে যে তিনি উদ্বিগ্ন তা স্পষ্ট করেছিলেন একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভায়। দু’দিনের মাথায় ঝাড়গ্রামের জেলা সভাপতি বদলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা তৃণমূলের নতুন সভাপতি হলেন নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু। তবে বিদায়ী জেলা সভানেত্রীকে বিরবাহা সরেনকে জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি পদে অবশ্য থাকছেন অজিত মাইতিই। তবে জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজনকে কো- অর্ডিনেটর করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, কো-অর্ডিনেটর হয়েছেন মানস ভুঁইয়া, শিউলি সাহা এবং প্রদীপ সরকার। মানস রাজ্যসভার সাংসদ। শিউলি কেশপুরের বিধায়ক। প্রদীপ খড়্গপুরের (সদর) বিধায়ক।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ব্যক্তি বিরবাহা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির হলেও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দলের একাংশের সঙ্গে বনিবনাও হচ্ছিল না। কিন্তু কোন অঙ্কে দায়িত্ব পেলেন দুলাল? তৃণমূল সূত্রের খবর, আদিবাসী সমীকরণ ছাড়াও দুলালের পক্ষে গিয়েছে গোষ্ঠী রাজনীতি এড়িয়ে চলার প্রবণতা। দুলাল বলছেন, ‘‘দিদি যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’’ বিরবাহাও বলছেন, ‘‘দলনেত্রী যা দায়িত্ব দিয়েছেন পালন করব।’’ জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর পদে যুগ্ম ভাবে এলেন উজ্জ্বল দত্ত ও অজিত মাহাতো। উজ্জ্বল জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ, নয়াগ্রাম ব্লক তৃণমূলের সভাপতি। অজিত হলেন ঝাড়গ্রাম শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি। উজ্জ্বল জেলা কো-অর্ডিনেটর হিসেবে নয়াগ্রাম ও বিনপুর বিধানসভার সাংগঠনিক দায়িত্ব পেয়েছেন। অজিত দেখবেন ঝাড়গ্রাম ও গোপীবল্লভপুর বিধানসভা। জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে দেবনাথ হাঁসদাকে সরিয়ে রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে। নতুন জেলা যুব সভাপতি শান্তনু ঘোষ। শান্তনু এতদিন ছিলেন সাঁকরাইল ব্লক যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি।
পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলা সভাপতির মতোই বদল হয়নি জেলা চেয়ারম্যান পদেও। থাকছেন দীনেন রায়ই। এতদিন জেলা চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকা পালন করতেন দীনেন। এ বার নতুন করে ওই তিনজনকে (মানস, শিউলি, প্রদীপ) কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। দলের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, সাংগঠনিক ঝাড়াই-বাছাইয়ে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন নেত্রী। মানস প্রবীণ নেতা। প্রদীপ নবীন। শিউলি মহিলা নেত্রী। কোন সমীকরণে পদ ধরে রাখলেন অজিত? তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিকল্প না- পেয়েই অজিতে আস্থা রেখেছেন মমতা। অজিতও বলছেন, ‘‘দল আস্থা রেখেছে। আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ।’’