সকালের প্রথম ট্রেন এসে পৌঁছতে পৌঁছতে ঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে যায় ৭টা। ততক্ষণে প্রাতঃভ্রমণ, শরীরচর্চা, কসরৎ সেরে ফেলেছেন আশপাশের বাসিন্দারা। শহিদ মাতঙ্গিনী স্টেশনের প্লাটফর্ম ক্রমশই হয়ে উঠছে শরীর চর্চার প্রাণকেন্দ্র।
কিন্তু এখানে কেন? প্রশ্ন শুনেই ব্যয়াম থামিয়ে ফিরে তাকালেন রামচন্দ্র কিস্কু। পেশায় পুলিশ কর্মী, আদতে হাওড়ার বাসিন্দা রামচন্দ্রবাবু থাকেন জেলা পুলিশ লাইনে। তাঁর সাফ কথা, ‘‘ভাড়া বাড়িতে চলে পুলিশ লাইন। ব্যয়াম করার জায়গা নেই। তাই প্লাটফর্মেই।’’
শহিদ মাতঙ্গিনী প্যাসেঞ্জার হল্ট স্টেশন। তাই সকালের প্রথম ট্রেন এসে থামে হলদিয়া থেকে, সকাল ৭টায়। তার আগেই হাঁটাহাঁটি সেরে ফেলেন ষাটোর্ধ্বা বেলা প্রামাণিক। সম্প্রতি রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়েছে তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাতঃভ্রমণ শুরু করেছেন। বেলাদেবী বলেন, ‘‘বাড়ি পদুমাবসানে। কাছেপিঠে মাঠ নেই। রাস্তায় হাঁটা যায় না। স্টেশন ছাড়া উপায় নেই।’’ পাশেই স্টেশনের সিঁড়ি দিয়ে বারবার উঠছিলেন-নামছিলেন গজেন্দ্র নায়েক, মানিকতলা বাজারে জুতোর ব্যবসা তাঁর। বললেন “এত বড় জেলা সদরে দু’টি মাঠ শহরের দুই প্রান্তে, এখান থেকে অনেক দূর। মানিকতলা অঞ্চলে প্রাতঃ ভ্রমনের জন্য একটি পার্ক জরুরি।’’
প্রথম ট্রেন আসার আগেই হাল্কা শরীরচর্চা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু রেলের সম্পত্তি ব্যবহার করতে গেলে যে দাম দিতে হয়। স্টেশন ম্যানেজার সুনীল কুমার বিশ্বাস জানালেন, যদিও এটি প্যাসেঞ্জার হল্ট স্টেশন, তবু টিকিট ছাড়া দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ। মফস্সল স্টেশনে সে সব মানে কে!
কিন্তু এত বড় শহরে মাঠের অভাবটা চোখে পড়ে রেল স্টেশনের এই ছবিতে। সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেনও। তিনি অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, ‘‘খুব তাড়াতাড়ি শহরে চারটি পার্ক তৈরি করতে চলেছি আমরা। মানিকতলা এলাকায় উপযুক্ত জমি পেলে একটি পার্ক তৈরি হবে।