পুরভোটে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট সভাপতি সৌমেন চক্রবর্তীকে তাঁর পদ থেকে অপসারনের কথা শনিবার জানান সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপক দাস। দীপকবাবুর কথায়, ‘‘পুরভোটে দল বিরোধী কাজের জন্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তমলুক কলেজ ইউনিট সভাপতি পদ থেকে সৌমেন চক্রবর্তীকে অপসারণ করা হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে সৌমেনবাবুর আর কোনও সম্পর্ক থাকছে না।’’
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা সৌমেন চক্রবর্তী তমলুক কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি পদে রয়েছেন গত প্রায় ৮ বছর ধরে। কলেজের ছাত্র সংসদের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গত ২৫ এপ্রিল পুরভোটের দিন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটযন্ত্রে এক নির্দল প্রার্থীর প্রতীক চিহ্নের উপর কালির ছাপ রয়েছে অভিযোগ তুলে ওই ভোটযন্ত্রে ভোট গ্রহনে আপত্তি জানান তৃণমূল প্রার্থী। আপত্তির ফলে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। সেই সময় হলদিয়া থেকে ওই ভোটকেন্দ্রে এসে নতুন যন্ত্রে ভোট নেওয়ার দাবি জানান তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা শ্যামল আদক ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। সেই সময় ওই ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী বিশ্বজিৎ কয়াল শ্যামলবাবুদের ‘বহিরাগত’ বলে অভিযোগ জানান। সেই সময় ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা সৌমেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী শ্যামলবাবুদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে এসে গোলমাল পাকানোর অভিযোগ তুলে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত শ্যামলবাবু ও তাঁর সঙ্গীরা পিছু হটে সেখান থেকে চলে যান।
দলেরই শ্রমিক সংগঠনের নেতা শ্যামলবাবুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের এই ঘটনার জেরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা সৌমেনবাবুর বিরুদ্ধে পুরসভার ভোটে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের অন্দরে। যার জেরে সৌমেনবাবুকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা। তৃণমূলের তমলুক শহর সভাপতি দিব্যেন্দু রায় বলেন, ‘‘পুরভোটের সময় সৌমেনবাবুর দলবিরোধী কাজের বিষয়ে ওই এলাকার দলীয় কর্মীরা জেলা নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে সৌমেনবাবু এ দিন বলেন, ‘‘সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাকে এ বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। তবে দলের বা সংগঠনের এই সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিচ্ছি। পুরভোটে আমি কোনও দলবিরোধী কাজ করিনি। কলেজ ইউনিট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’’
বেআইনি বাজি কারখানায় অভিযান। পিংলা কাণ্ডের জেরে ঘাটাল মহকুমা জুড়ে বেআইনি বাজি কারখানায় অভিযান চালাল পুলিশ। শনিবার রাতে চন্দ্রকোনা থানার তাতারপুরে এক বাজি কারখানায় হানা দিয়ে প্রচুর পটকা, গাছ বোম, পাইপ বোমা ও বারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার মালিক জয়দেব দোলই পলাতক। তার নামে মামলা শুরু করেছে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ।
শনিবার রাতেই ঘাটাল শহরের গম্ভীরনগরে একটি দোকান থেকে বেশ কয়েক প্যাকেট চকোলেট বোম-সহ অনান্য বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে ঘাটাল পুলিশ। তবে এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। একই ভাবে দাসপুর থানার নাড়াজোলেও একটি দোকান থেকে বস্তা ভর্তি বিভিন্ন রকমের বোমা উদ্ধার করে দাসপুর থানার পুলিশ। লাইসেন্স বিহীন বোম বিক্রির অভিযোগে পূর্ণচন্দ্র দোলই নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে দাসপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে রবিবার ঘাটাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।